উম্মাহ কণ্ঠ নিউজডেস্ক: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টর্মারের নেতৃত্বাধীন লেবার সরকারে বড় ধরনের ধস নামতে শুরু করেছে। কয়েক সপ্তাহের উত্তেজনার পর অবশেষে ওয়েস্টমিনস্টারে ফেরার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের প্রভাবশালী মেয়র এন্ডি বার্নহাম। মেকারফিল্ড আসনের লেবার এমপি জশ সাইমন্স পদত্যাগ করার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই বার্নহাম ওই আসনে উপনির্বাচনে লড়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একে স্টর্মারের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার দৌড়ে বার্নহামের প্রথম ও শক্তিশালী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
বার্নহামের এই ঘোষণা এমন এক সময় এল যখন সরকারের ভেতর থেকেই প্রধানমন্ত্রী স্টর্মারের নেতৃত্ব নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালেই স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ওয়েস স্ট্রিটিং। নিজের পদত্যাগপত্রে স্ট্রিটিং বর্তমান নেতৃত্বের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, সরকারের ভেতরে একটি ‘শূন্যতা’ তৈরি হয়েছে এবং স্টর্মারের কোনো সুস্পষ্ট ‘ভিশন’ বা লক্ষ্য নেই। তিনি সরাসরি দাবি তুলেছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর উচিত তার পদত্যাগের জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা। স্ট্রিটিংয়ের এই কঠোর অবস্থান স্টর্মারের গদিকে আরও নড়বড়ে করে দিয়েছে।
এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে স্ট্রিটিংয়ের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ট্রেজারির চিফ সেক্রেটারি জেমস মারেকে নিয়োগ দিয়েছেন কিয়ার স্টর্মার। তবে এই নতুন নিয়োগ সরকারের ভেতরে চলমান অস্থিরতা কতটা কমাতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির বিপর্যয় এবং রিফর্ম ইউকে-র ক্রমবর্ধমান উত্থান দলটির ভেতরে গৃহদাহ উসকে দিয়েছে। বিশেষ করে রিফর্ম ইউকে-র নেতা নাইজেল ফারাজ ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে, তারা মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে তাদের সব শক্তি প্রয়োগ করবে। ফারাজের মতে, বার্নহাম হচ্ছেন স্টর্মারের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী এবং বিপজ্জনক প্রতিদ্বন্দ্বী।
এন্ডি বার্নহাম এর আগে জানুয়ারি মাসে গোর্টন এবং ডেন্টন উপনির্বাচনের মাধ্যমে সংসদে ফেরার চেষ্টা করেছিলেন। তবে সে সময় লেবার পার্টির ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটি (এনইসি) তার সেই চেষ্টাকে আটকে দিয়েছিল। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। দলীয় সূত্রগুলো জানাচ্ছে, এনইসি এবার সম্ভবত বার্নহামের প্রার্থিতা আটকে দেবে না। দলের বড় একটি অংশ মনে করছে, স্টর্মারের জনপ্রিয়তা যখন তলানিতে, তখন বার্নহামের মতো জনপ্রিয় নেতাকে জাতীয় রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনা ছাড়া লেবার পার্টির সামনে আর কোনো বিকল্প নেই।
বার্নহাম তার প্রচারণায় ম্যানচেস্টারের উন্নয়নের মডেলকে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার সমর্থকরা মনে করছেন, তিনি লেবার পার্টির আদর্শগত শূন্যতা পূরণ করতে সক্ষম। জশ সাইমন্স তার পদত্যাগপত্রের চিঠিতেও বার্নহামের প্রতি সমর্থন জানিয়ে লিখেছেন যে, বর্তমান সরকার কাঙ্ক্ষিত সংস্কার করতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং বার্নহামই পারেন নতুন একটি দিকনির্দেশনা দিতে। অ্যাঞ্জেলা রেনার এবং এড মিলিব্যান্ডের মতো শীর্ষ নেতারাও বার্নহামের এই পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জোগাচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে এখন বড় প্রশ্ন হলো—কিয়ার স্টর্মার কি আগামী সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারবেন? নাকি ওয়েস্টমিনস্টারে বার্নহামের প্রবেশই হবে স্টর্মারের বিদায়ের চূড়ান্ত সংকেত। ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলো এই লড়াইকে ‘ব্যাটল ফর দ্য সোল অফ লেবার’ বা লেবার পার্টির অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে বর্ণনা করছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের রাজনৈতিক নাটকীয়তা নির্ধারণ করবে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের ভবিষ্যৎ মালিক কে হতে যাচ্ছেন।
