উম্মাহ কণ্ঠ নিউজডেস্ক: ব্রিটিশ রাজনীতির শীর্ষ পর্যায়ে কর সংক্রান্ত আইনি জটিলতা থেকে সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার অব্যাহতি পেলেও জনমনে নতুন করে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৫ মে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এইচএমআরসি বা ব্রিটিশ কর কর্তৃপক্ষ রেনারকে কর ফাঁকির অভিযোগ থেকে ‘নির্দোষ’ ঘোষণা করেছে। তবে এই সিদ্ধান্তের পর সাধারণ নাগরিক ও করদাতাদের মধ্যে তীব্র বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ী নারী গ্যাব্রিয়েল ও’ডনোভানের মতো সাধারণ মানুষ যখন কর্তৃপক্ষের হয়রানির শিকার হচ্ছেন, তখন রাজনীতিবিদদের প্রতি নমনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা।
সাবেক এই উপ-প্রধানমন্ত্রী গত সপ্তাহে জানিয়েছেন যে, হোভ অঞ্চলে ৮ লাখ পাউন্ড মূল্যের একটি ফ্ল্যাট কেনার সময় ৪০ হাজার পাউন্ডের স্ট্যাম্প ডিউটি না দেওয়ার অভিযোগ থেকে এইচএমআরসি তাকে অব্যাহতি দিয়েছে। দীর্ঘ আট মাসের তদন্ত শেষে কর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রেনারের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। অথচ অনেক কর বিশেষজ্ঞই ধারণা করেছিলেন যে, তাকে বড় ধরনের জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে। কিয়ার স্টর্মারের নীতি উপদেষ্টা ইতিমধ্যে নির্ধারণ করেছিলেন যে, রেনার মন্ত্রীত্বের আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন, যার ফলে তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।
রেনারের এই স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতির বিপরীতে দাঁড়িয়ে আছেন ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট ও লেখিকা গ্যাব্রিয়েল ও’ডনোভান। তার অভিজ্ঞতায় এইচএমআরসি এক নিষ্ঠুর প্রতিষ্ঠান। ও’ডনোভান জানান, ২০২২ সালে তাকে ভুলবশত ১ লাখ ৩২ হাজার পাউন্ডের ভ্যাট ফাঁকিবাজ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। অথচ সেই কর তার পাওনাই ছিল না। এইচএমআরসি তাদের পাবলিক ওয়েবসাইটে তাকে ‘ট্যাক্স ডজার’ বা কর ফাঁকিবাজ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। এর ফলে তাকে ঘৃণাভরা চিঠি ও সামাজিক লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়েছে। কিন্তু নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পরও তিনি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো পূর্ণাঙ্গ ক্ষমা বা ক্ষতিপূরণ পাননি।
ও’ডনোভান ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফকে বলেন, এই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা নিয়ে তিনি সম্পূর্ণ হতাশ। তার মতে, এইচএমআরসি সাধারণ মানুষকে সহজ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করে, কিন্তু প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের ক্ষেত্রে তাদের আচরণ বদলে যায়। রেনারের ক্ষেত্রে তদন্তে যে ধরনের নমনীয়তা দেখানো হয়েছে, তা সাধারণ করদাতাদের জন্য এক বড় ধরনের অপমান বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও যোগ করেন যে, ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা মানুষ এবং সাধারণ মানুষের জন্য কর কর্তৃপক্ষের আইন কি আলাদা?
এইচএমআরসি করদাতার গোপনীয়তার দোহাই দিয়ে রেনারের মামলার বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে ও’ডনোভানের মতো হাজার হাজার করদাতা মনে করছেন, তাদের প্রতি কর্তৃপক্ষের আচরণ অনেক বেশি আগ্রাসী। অনেক সময় ছোট ছোট ভুলের জন্য সাধারণ ব্যবসায়ীদের দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম হয়, যেখানে রাজনীতিবিদরা প্রভাবশালী আইনজীবীদের মাধ্যমে সহজে রেহাই পেয়ে যান। রেনার অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি ইচ্ছা করে কোনো কর ফাঁকি দেননি এবং কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে তিনি ন্যায়বিচার পেয়েছেন।
বর্তমান লেবার সরকারের জন্য এই কর বিতর্ক এক বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে যখন সরকার কৃচ্ছ্রসাধনের কথা বলছে এবং সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা বাড়ছে, তখন রেনারের এই অব্যাহতি ‘দুমুখো নীতি’ হিসেবে সমালোচিত হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এইচএমআরসির ভাবমূর্তি রক্ষায় সাধারণ করদাতাদের প্রতি তাদের আচরণ আরও মানবিক হওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা পুরোপুরি ধসে পড়তে পারে। অ্যাঞ্জেলা রেনারের কর অব্যাহতির এই ঘটনাটি সম্ভবত দীর্ঘ সময় ধরে ব্রিটিশ রাজনীতির অলিগলিতে আলোচনার খোরাক জোগাবে।
