ফুটবল মাঠে অসংখ্য রেকর্ড ও ট্রফি উপহার দেওয়ার পর এবার লিওনেল মেসির বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে যুক্ত হলো আরেকটি মর্যাদাপূর্ণ পালক। স্পেনের অন্যতম সম্মানজনক স্বীকৃতি প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড ফর স্পোর্টস ২০২৬-এর বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী এই অধিনায়ক। মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি সমাজের প্রতি ইতিবাচক প্রভাব এবং দীর্ঘদিনের মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে এই স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে।
বর্তমানে ইন্টার মিয়ামির হয়ে খেলা ৩৮ বছর বয়সী এই তারকা ফুটবলার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসাধারণ ধারাবাহিকতা প্রদর্শন করেছেন। পুরস্কার প্রদানকারী জুরি বোর্ড তাদের ঘোষণায় জানিয়েছে, মেসির নম্রতা, দলীয় চেতনার প্রতি অটল প্রতিশ্রুতি এবং বিশ্বজুড়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা উন্নয়নে তার দীর্ঘদিনের দাতব্য কার্যক্রম তাকে ক্রীড়াঙ্গনের এক অনুকরণীয় ব্যক্তিতে পরিণত করেছে। তার প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ লাখো মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের আলো ছড়িয়েছে।
মেসির এই অর্জনের খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্বব্যাপী অভিনন্দন জোয়ার বইছে। তার সাবেক ক্লাব বার্সেলোনা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মেসির অসাধারণ উত্তরাধিকার এবং ক্লাবের ইতিহাসে তার যে অসামান্য অবদান রয়েছে, তার জন্য এই স্বীকৃতি সম্পূর্ণ প্রাপ্য। বার্সেলোনার জার্সিতে মেসি তার ক্যারিয়ারের সেরা সময় কাটিয়েছেন। ক্লাবটির হয়ে তিনি ৪টি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ১০টি লা লিগা এবং ৭টি কোপা দেল রে শিরোপা জিতেছেন। তার নেতৃত্বেই বার্সেলোনা বিশ্বের অন্যতম সফল ক্লাবে পরিণত হয়েছিল।
প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস ফাউন্ডেশনের ভাষ্যমতে, ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সফল খেলোয়াড়দের একজন হওয়ার পাশাপাশি মাঠের ভেতরে ও বাইরে মেসির আদর্শ আচরণ কোটি মানুষের হৃদয় জয় করেছে। এই সম্মাননা পাওয়ার মাধ্যমে তিনি এমন এক সম্মানিত তালিকায় নিজের নাম যুক্ত করলেন, যেখানে আগে স্থান পেয়েছিলেন রাফায়েল নাদাল, মাইকেল শুমাখার এবং কার্ল লুইস-এর মতো কিংবদন্তিরা।
ফুটবলারদের মধ্যে সর্বশেষ ২০১২ সালে যৌথভাবে এই পুরস্কার পেয়েছিলেন ইকার ক্যাসিয়াস ও জাভি হার্নান্দেজ। এরপর প্রথম ফুটবলার হিসেবে এককভাবে এই সম্মাননা অর্জন করলেন মেসি। যা কম স্পষ্ট তা হলো, মেসি ভবিষ্যতে তার দাতব্য কার্যক্রমের পরিধি আরও বাড়াবেন কি না। তবে এই স্বীকৃতি তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের মুকুটে এক নতুন মাত্রা যোগ করল। ফুটবল মাঠের জাদুকর হিসেবে মেসি বরাবরই নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, আর এই সম্মাননা প্রমাণ করে যে তিনি কেবল মাঠের খেলার জন্যই নন, বরং একজন মানবিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেও বিশ্বজুড়ে সম্মানিত।
