সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

গাজায় নতুন করে অবৈধ বসতি স্থাপনের ঘোষণা ইসরায়েলের

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১৯, ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম

গাজায় নতুন করে অবৈধ বসতি স্থাপনের ঘোষণা ইসরায়েলের

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পর এবার সেখানে নতুন করে অবৈধ বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা জোরদার করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ সম্প্রতি উত্তর গাজায় তিনটি সামরিক ও কৃষিভিত্তিক ফাঁড়ি বা বসতি স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন বলে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে।

রবিবার এক প্রতিবেদনে আল জাজিরা জানায়, ইসরায়েলের চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাৎজ এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, উত্তর গাজার যেসব জায়গায় আগে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ছিল, সেখানে নতুন করে তিনটি নাহাল ফাঁড়ি স্থাপন করা হবে। সামরিক উপস্থিতির পাশাপাশি এসব ফাঁড়িতে কৃষিভিত্তিক কার্যক্রমও চলবে, যা গাজার ওপর ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ আরও পাকাপোক্ত করবে। তিনি দাবি করেন, সঠিক সময়ে ও উপযুক্ত সমন্বয়ের মাধ্যমে এই বসতিগুলো স্থাপন করা হলে তা ইসরায়েলের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করবে।

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির এই সদস্যের এ ধরনের উস্কানিমূলক মন্তব্য এবারই প্রথম নয়। গত ডিসেম্বর মাসেও তিনি বলেছিলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহারের কথা থাকলেও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী কখনোই গাজার পুরো নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না। তার এই বক্তব্যের সাথে ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের সাম্প্রতিক একটি মন্তব্যেরও মিল রয়েছে। স্মোট্রিচ দাবি করেছেন, উত্তর গাজায় তিনটি নতুন বসতি স্থাপনের প্রাথমিক কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা বসতি স্থাপন প্রশাসনের দায়িত্বেও রয়েছেন স্মোট্রিচ এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে পুরো গাজা উপত্যকা দখলের দাবি জানিয়ে আসছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, গাজার ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করে সেখানে বসতি স্থাপন করা ইসরায়েলি কট্টরপন্থীদের একটি দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য। ইসরায়েলের সাবেক কূটনীতিক অ্যালন লিয়েল আল জাজিরাকে জানান, গাজাবাসীদের সেখান থেকে বিতাড়িত করে পশ্চিম তীরের মতো গাজাতেও স্থায়ী বসতি গড়তে চায় ইসরায়েলি সরকার। আল মেজান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটসের পরিচালক ও ফিলিস্তিনি মানবাধিকার কর্মী ইসাম ইউনিস বলেন, কাৎজের এমন মন্তব্যে তিনি মোটেও অবাক হননি। তিনি উল্লেখ করেন, গাজার সবকিছু ধ্বংস করে সেখানে ফিলিস্তিনিদের জীবনযাত্রা অসম্ভব করে তোলাই ইসরায়েলি গণহত্যার প্রধান উদ্দেশ্য।

ইউনিস আরও বলেন, ইসরায়েলি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিভিন্ন বক্তব্যই প্রমাণ করে যে, গাজাকে ফিলিস্তিনি শূন্য করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। এমনকি গত ২০২৫ সালের শুরুতে গাজার বাসিন্দাদের স্বেচ্ছায় অভিবাসন তদারকি করার জন্য একটি বিশেষ সংস্থা গঠনেরও ঘোষণা দিয়েছিল ইসরায়েল। আন্তর্জাতিক মহলে এর তীব্র সমালোচনার পর সম্প্রতি সেই সংস্থার নাম পরিবর্তন করে অবাধ চলাচল পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। একটি সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ইসরায়েলের প্রায় ৮২ শতাংশ ইহুদি নাগরিক ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে বিতাড়নের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন।

এদিকে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর দীর্ঘ নয় মাস পেরিয়ে গেলেও গাজায় এখনো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। এই সময়ের মধ্যে অন্তত ১,১২৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৬৫ জন শিশু রয়েছে। গাজার চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ ত্রাণ সহায়তা প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে বলে মানবাধিকার কর্মীরা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলি বাহিনী গাজার ভেতরে তাদের নিয়ন্ত্রিত ইয়েলো লাইন বা হলুদ রেখা সম্প্রসারিত করে উপত্যকাটির প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা নিজেদের দখলে নিয়েছে। আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনকে সামনে রেখে কট্টর ভোটারদের আকৃষ্ট করতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যা কম স্পষ্ট তা হলো, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কবে এই অবৈধ দখলদারিত্ব রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

banner
Link copied!