রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিশ্বকাপ ফাইনালে আজ স্পেনের মুখোমুখি আর্জেন্টিনা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১৯, ২০২৬, ০২:১৭ পিএম

বিশ্বকাপ ফাইনালে আজ স্পেনের মুখোমুখি আর্জেন্টিনা

ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে আজ রোববার নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সির স্টেডিয়ামে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে আল জাজিরা ও রয়টার্স। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে এই মেগা আসর ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে প্রবল উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতে শুরু হতে যাওয়া এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে ফুটবলের দুই পরাশক্তি নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য মাঠে নামছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইস্ট রাদারফোর্ডের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে প্রায় আশি হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে এই ফাইনাল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একদিকে রয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার আক্রমণাত্মক ফুটবল, অন্যদিকে স্পেনের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণের কৌশল। উভয় দলের এই লড়াইকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা দ্বৈরথ হিসেবে আখ্যায়িত করছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। এই ম্যাচ ঘিরে নিউ ইয়র্ক ও এর আশেপাশের এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে, যেখানে উভয় দলের বিপুলসংখ্যক সমর্থক জড়ো হয়েছেন।

ফাইনালের মূল আকর্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে উনচল্লিশ বছর বয়সী লিওনেল মেসি ও উনিশ বছর বয়সী স্প্যানিশ তারকা লামিন ইয়ামালের ব্যক্তিগত লড়াইকে। বিবিসি নিউজের তথ্যমতে, বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে খেলা সবচেয়ে বয়স্ক আউটফিল্ড খেলোয়াড় হতে যাচ্ছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক মেসি। অন্যদিকে স্পেনের ইয়ামাল অল্প বয়সেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অভাবনীয় প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছেন। এটি কেবল দুটি ভিন্ন মহাদেশের দলের নয়, বরং ফুটবলের দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রজন্মের লড়াই হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামছে লিওনেল স্কালোনির দল। চলতি আসরে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ উনিশটি গোল করেছে আর্জেন্টিনা, যা তাদের আক্রমণভাগের শক্তিমত্তার প্রমাণ দেয়। তবে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নকআউট পর্বের প্রতিটি ম্যাচে নির্ধারিত নব্বই মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থাকলেও শেষ মুহূর্তে ফিরে আসার অসাধারণ রেকর্ড দেখিয়েছে লাতিন আমেরিকার দলটি। কোয়ার্টার ফাইনাল এবং সেমিফাইনালেও তারা তীব্র লড়াইয়ের পর জয় ছিনিয়ে এনেছে। আজকের ম্যাচেও সেই জয়ের ধারা এবং মানসিক দৃঢ়তা অব্যাহত রাখতে চাইবে তারা।

অন্যদিকে, কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে দারুণ ছন্দে রয়েছে স্পেন। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই নিজেদের রক্ষণভাগের শক্তিমত্তা প্রমাণ করে এখন পর্যন্ত পুরো আসরে মাত্র একটি গোল হজম করেছে তারা। সেমিফাইনালে শক্তিশালী ফ্রান্সকে দুই শূন্য গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে স্প্যানিশরা। এর আগে পর্তুগাল ও বেলজিয়ামের মতো শক্তিশালী দলকেও বিদায় করেছে তারা। তরুণ এবং অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গঠিত এই দলটি দীর্ঘ ষোলো বছর পর শিরোপা পুনরুদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ফাইনালের দিন আকাশ পরিষ্কার থাকবে এবং খেলার জন্য আদর্শ পরিবেশ বজায় থাকবে। কয়েকদিন আগের ভারী বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া কেটে যাওয়ায় আয়োজকরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। মাঠের কৌশলগত দিক বিবেচনায় আর্জেন্টিনার মাঝমাঠের খেলোয়াড়দের উপর অনেক বেশি নির্ভর করতে হবে। কারণ স্পেনের পাসিং ফুটবলের বিপরীতে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাটা স্কালোনির দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। স্প্যানিশ মিডফিল্ডাররা পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই বলের দখল রেখে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার কাজটা নিপুণভাবে করেছেন।

যা কম স্পষ্ট তা হলো, আজকের এই মহোৎসবে শেষ হাসি ঠিক কোন দল হাসবে। আর্জেন্টিনার আবেগনির্ভর আক্রমণভাগ স্পেনের সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগকে ভাঙতে পারবে কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। উভয় দলেরই রয়েছে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো একক সামর্থ্যবান খেলোয়াড়। মেসি চাইবেন তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের শেষ বেলায় আরও একটি বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে। আর ইয়ামালের সামনে সুযোগ রয়েছে ক্যারিয়ারের শুরুতেই বিশ্বজয়ের স্বাদ নেওয়ার। কোটি দর্শকের চোখ এখন মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচায়, যেখানে লেখা হবে ফুটবলের নতুন এক ইতিহাস।

banner
Link copied!