সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিশ্বকাপ ফাইনালে নিউ ইয়র্কে স্পেনের সমর্থকদের উল্লাস

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১৯, ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম

বিশ্বকাপ ফাইনালে নিউ ইয়র্কে স্পেনের সমর্থকদের উল্লাস

ছবি : সংগৃহীত

আল জাজিরা এবং বিবিসি নিউজের সংবাদ অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের রোমাঞ্চকর ফাইনালের আগে নিউ ইয়র্ক শহরে স্প্যানিশ ফুটবল দলের সমর্থকদের মধ্যে অভূতপূর্ব উন্মাদনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে রোববারের মেগা ফাইনালকে সামনে রেখে স্পেনের লা রোহা খ্যাত দলের প্রতি সমর্থন জানাতে ম্যানহাটনের চেলসি এলাকার বিভিন্ন স্থানে জড়ো হচ্ছেন হাজারো মানুষ। ঐতিহ্যবাহী স্প্যানিশ বেনেভোলেন্ট সোসাইটি এবং এর রেস্তোরাঁ লা ন্যাসিওনাল এখন সমর্থকদের মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নদের নান্দনিক ফুটবল কৌশল এবং তরুণ তারকাদের বৈচিত্র্যময় শেকড় শহরের সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের প্রবলভাবে আকৃষ্ট করেছে।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক সাতান্ন বছর বয়সী রবার্ট সানফিজ জানান, ফাইনাল ম্যাচটি একসঙ্গে দেখার জন্য তাদের কাছে প্রচুর অনুরোধ আসছে। রেস্তোরাঁর ধারণক্ষমতা এরই মধ্যে পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে জায়গা দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি মনে করেন, ২০১০ সালের বিশ্বকাপে স্পেনের ঐতিহাসিক জয় এই সংগঠনের পুনর্জাগরণে বড় ভূমিকা রেখেছিল। দেড়শ বছর আগে স্প্যানিশ অভিবাসীদের সহায়তার জন্য এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সানফিজ বলেন, যদিও এই এলাকার পুরোনো স্প্যানিশ ছোঁয়া অনেকটাই কমে গেছে, তবুও যারা নিজেদের শেকড়কে মনে রাখেন, তাদের জন্য তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

এবারের বিশ্বকাপে স্পেনের ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের কৌশল এবং উনিশ বছর বয়সী তারকা খেলোয়াড় লামিন ইয়ামালের বড় ভূমিকা রয়েছে। শনিবার নিউ ইয়র্কের মিডটাউনে অবস্থিত স্প্যানিশ শেফ হোসে আন্দ্রেসের রেস্তোরাঁ চেইন মারকাদো লিটল স্পেনে প্রচুর লাল জার্সিধারী সমর্থক জড়ো হন। শিকাগো থেকে আসা আটত্রিশ বছর বয়সী সমর্থক হাভিয়ের ভ্রিজ বলেন, দীর্ঘদিনের স্পেন সমর্থক হিসেবে এই মুহূর্তটি তার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে। তিনি জানান, স্পেনের পাসিং ফুটবল এবং ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চেয়ে দলগত কৌশলকে প্রাধান্য দেওয়ার নীতিই তাদের এই অভাবনীয় সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

স্পেনের এই জাদুকরী সাফল্যের কারণে নিউ ইয়র্ক শহরে নতুন একটি সমর্থক গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। টুর্নামেন্টের নকআউট পর্ব থেকে নিজেদের প্রিয় দলগুলো বাদ পড়ার পর অনেক নিরপেক্ষ দর্শক এখন স্পেনের পক্ষে গলা ফাটাচ্ছেন। মেক্সিকোর সমর্থক ছাব্বিশ বছর বয়সী রোলান্ডো সানচেজ জানান, মেক্সিকো দল বাদ পড়ার পর অনেকেই এখন তরুণ খেলোয়াড়দের কারণে স্পেনকে সমর্থন করছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, স্পেনের বর্তমান খেলোয়াড়রাই মূলত আন্তর্জাতিক ফুটবলের ভবিষ্যৎ।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তরুণ উইঙ্গার লামিন ইয়ামালের বাবার মরক্কোর বংশোদ্ভূত হওয়া এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্পেনের সরকারি স্বীকৃতির কারণে নিউ ইয়র্কের আরব ও মুসলিম সম্প্রদায় দলটির প্রতি প্রবল সমর্থন দেখাচ্ছে। ব্রুকলিনের লিটল প্যালেস্টাইন এলাকায় এই উন্মাদনা বেশ স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। বিবিসি নিউজ জানিয়েছে, আরব বিশ্বের পাশাপাশি আফ্রিকান প্রবাসীদের মধ্যেও স্পেনের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

দলের অন্যতম তারকা উইঙ্গার নিকো উইলিয়ামসের বাবা-মা ঘানা থেকে স্পেনে পাড়ি জমিয়েছিলেন এবং লামিন ইয়ামালের মা নিরক্ষীয় গিনি থেকে এসেছেন। এই আফ্রিকান শেকড়ের কারণে গাম্বিয়া থেকে আসা অভিবাসী এবং ব্রঙ্কসের স্থানীয় ফুটবল কোচ চৌত্রিশ বছর বয়সী উসমান সাহো স্পেনের পক্ষে নিজের জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় আফ্রিকান অভিবাসীদের প্রতি স্পেন সরকারের ইতিবাচক ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণেও দলটির প্রতি সাধারণ মানুষের ভালোবাসা তৈরি হয়েছে। বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির শহর নিউ ইয়র্কে এখন তাই স্প্যানিশ ফুটবল দলের জয়গান ধ্বনিত হচ্ছে।

banner
Link copied!