সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিশ্বকাপে ডি-বক্সের বাইরে থেকে গোল দ্বিগুণ হয়েছে

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১৯, ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম

বিশ্বকাপে ডি-বক্সের বাইরে থেকে গোল দ্বিগুণ হয়েছে

ছবি : সংগৃহীত

আল জাজিরা এবং রয়টার্সের সংবাদ অনুযায়ী, উত্তর আমেরিকায় চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে গোল করার হার কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় পুরোপুরি দ্বিগুণ হয়েছে। শনিবার আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপ বা টিএসজি আনুষ্ঠানিকভাবে এই চমকপ্রদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীদের কাছে দূরপাল্লার এসব দর্শনীয় গোল দারুণ রোমাঞ্চের জন্ম দিচ্ছে। মূলত এবারের মেগা টুর্নামেন্টে বিভিন্ন দলের কৌশলগত এক বড় পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই এই দূরপাল্লার শটগুলো বেশি দেখা যাচ্ছে।

ফিফার প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের আসরে এখন পর্যন্ত হওয়া মোট গোলের ১৬ শতাংশ এসেছে ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট থেকে। যেখানে ২০২২ সালে কাতারে অনুষ্ঠিত গত বিশ্বকাপে এই ধরনের গোলের হার ছিল মাত্র ৮ শতাংশ। আন্তর্জাতিক ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক ফুটবলে বেশিরভাগ দলের অতিমাত্রায় রক্ষণাত্মক কৌশল বা লো ব্লক ডিফেন্সিং মূলত এই পরিসংখ্যানগত পরিবর্তনের প্রধান কারণ। দুর্বল দলগুলো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের গোলপোস্টের কাছাকাছি রক্ষণভাগকে অত্যন্ত মজবুত করে রাখছে, যার ফলে আক্রমণভাগের তারকা খেলোয়াড়রা বাধ্য হয়েই দূর থেকে ভাগ্য পরীক্ষার পথ বেছে নিচ্ছেন।

জার্মানির কিংবদন্তি ফুটবলার, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের সাবেক কোচ এবং ফিফার টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপের অন্যতম শীর্ষ সদস্য জার্গেন ক্লিন্সমান সাংবাদিকদের সামনে এই ক্রমবর্ধমান প্রবনতার পেছনের কৌশলগত কারণগুলো আরও গভীরভাবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি পরিষ্কারভাবে জানান যে, যখন পেনাল্টি বক্স এবং এর আশেপাশের এলাকায় একসঙ্গে আট থেকে নয়জন খেলোয়াড় অবস্থান করেন, তখন গোলরক্ষকদের জন্য দূর থেকে আসা বলের গতিপথ শুরু থেকেই নজরে রাখা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। খেলোয়াড়দের এই ভিড়ের কারণে গোলরক্ষকের দৃষ্টিসীমা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয় এবং ফলস্বরূপ জোরালো শটের বল জালে জড়ানোর সম্ভাবনা অনেকাংশে বেড়ে যায়।

যা কম স্পষ্ট তা হলো, স্পেনের মতো সুশৃঙ্খল দলগুলোর বিপক্ষে ফাইনালেও এই দূরপাল্লার গোলের কৌশল ঠিক কতটা কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। তবে ক্লিন্সমান হাসিমুখে উল্লেখ করেছেন যে, আধুনিক ফুটবলের কৌশলগত দিক থেকে এই নতুন পরিবর্তনটি কোচদের জন্য বেশ উপভোগ্য একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিশ্ছিদ্র রক্ষণভাগের কারণে বাধ্য হয়েই আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা দূর থেকে শক্তিশালী শট নিচ্ছেন এবং গ্যালারিতে থাকা দর্শকরাও অসাধারণ সব গোলের সাক্ষী হচ্ছেন।

ফুটবলের এই নতুন ধারা সাধারণ দর্শকদের আনন্দ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। গোলপোস্টের পঁচিশ বা ত্রিশ গজ দূর থেকে নেওয়া আচমকা শটগুলো যখন জালের ঠিকানা খুঁজে পায়, তখন স্টেডিয়ামের উন্মাদনা অন্য রকম রূপ নেয়। ফিফার কর্মকর্তারা মনে করছেন, টুর্নামেন্টের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে এই দূরপাল্লার শটগুলো ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হয়ে উঠবে। আপাতত পুরো ফুটবল বিশ্ব রোববারের ফাইনাল ম্যাচের দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে, যেখানে হয়তো আরও একটি জাদুকরী শট নতুন কোনো ইতিহাস রচনা করবে।

banner
Link copied!