আল জাজিরা এবং দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস বা এপি-র সংবাদ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে আজ মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন এবং আর্জেন্টিনা। এই মহারণে কেবল ফুটবলের সর্বোচ্চ মর্যাদার ট্রফিই নয়, বরং ফুটবল ইতিহাসের নতুন এক অধ্যায় রচিত হতে যাচ্ছে। মাঠের লড়াইয়ের বাইরেও এই ম্যাচ ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে প্রবল উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি অধিনায়ক লিওনেল মেসি এবং স্পেনের উদীয়মান তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল।
নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে অবস্থিত মেটলাইফ স্টেডিয়ামে রোববারের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অপটার সুপারকম্পিউটারের তথ্যমতে, এবারের ফাইনালে শিরোপা জয়ের দৌড়ে স্পেন কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। পঁচিশ হাজার প্রাক-ম্যাচ সিমুলেশন বা কৃত্রিম বিশ্লেষণের পর দেখা গেছে, ৫৯ দশমিক ৬ শতাংশ ক্ষেত্রে স্পেন বিজয়ী হয়েছে, যেখানে ৪০ দশমিক ৪ শতাংশ ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনা তাদের শিরোপা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। নির্ধারিত নব্বই মিনিটের খেলা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, স্পেনের জয়ের সম্ভাবনা ৪৫ শতাংশ এবং অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচ গড়ানোর সম্ভাবনা ২৯ শতাংশ। অন্যদিকে, নির্ধারিত সময়ে আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ২৬ শতাংশ।
বিশ্বকাপের মঞ্চে এর আগে মাত্র একবারই এই দুই দল একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিল। ১৯৬৬ সালের সেই গ্রুপ পর্বের ম্যাচে আর্জেন্টিনা দুই এক গোলে স্পেনকে পরাজিত করেছিল। তবে চলতি শতাব্দীর শুরু থেকে মুখোমুখি লড়াইয়ে স্প্যানিশদের আধিপত্য বেশি। এই সময়ে খেলা চারটি ম্যাচের তিনটিতেই জয় পেয়েছে ইউরোপের দলটি। এবারও তারা সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাইবে। অন্যদিকে, লাতিন আমেরিকার দলটির সমর্থকরা তাদের অধিনায়কের বিদায়ী বিশ্বকাপ রাঙাতে টানা দ্বিতীয় শিরোপার স্বপ্নে বিভোর হয়ে আছেন।
এই ফাইনাল ম্যাচটিকে ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় মেসির সম্ভাব্য শেষ ম্যাচ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। উনচল্লিশ বছর বয়সী এই তারকার শেষ অনুশীলনের দিকে নজর রাখছেন কোটি কোটি ভক্ত। অন্যদিকে, স্পেনের উনিশ বছর বয়সী তরুণ ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামালের সঙ্গে মেসির একটি পুরোনো ছবি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অনেকেই এই ম্যাচটিকে ফুটবলের এক প্রজন্মের হাত থেকে নতুন প্রজন্মের হাতে মশাল হস্তান্তরের প্রতীকী লড়াই হিসেবে দেখছেন। ইয়ামাল চাইবেন এই মহামঞ্চে নিজেকে ফুটবলের নতুন বৈশ্বিক তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে।
ফুটবলীয় উত্তেজনার পাশাপাশি এই ম্যাচের আগে নিউ ইয়র্ক এবং এর আশেপাশের এলাকার পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। কানাডার ভয়াবহ দাবানল থেকে সৃষ্ট ধোঁয়ার কারণে উত্তর-পূর্ব যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ এলাকা ঢেকে যায়, যার ফলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করতে বাধ্য হয়েছিল। তবে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, সপ্তাহান্তে একটি শীতল বাতাস প্রবাহিত হওয়ার কারণে রোববারের ফাইনালের আগে এই বিপজ্জনক ধোঁয়াশা কেটে যাবে। ফলে মাঠে খেলা গড়াতে কোনো সমস্যা হবে না। আশা করা হচ্ছে, মেটলাইফ স্টেডিয়ামের উন্মুক্ত গ্যালারিতে প্রায় আশি হাজার দর্শক সরাসরি এই ঐতিহাসিক লড়াই উপভোগ করবেন এবং সেন্ট্রাল পার্কে আরও অন্তত পঞ্চাশ হাজার মানুষ বড় পর্দায় খেলা দেখবেন।
