ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের চলমান মৌসুমে মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও ডাগআউটের অস্থিরতা এখন আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে। সিনিয়র ফুটবল করেসপনডেন্ট সামি মকবিলের এক গভীর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, আসন্ন গ্রীষ্মকালীন বিরতিতে প্রিমিয়ার লিগের বড় ক্লাবগুলোতে ব্যাপক রদবদল ঘটতে যাচ্ছে। চলতি মৌসুমে ইতিমধ্যেই ১০ জন কোচ তাদের চাকরি হারিয়েছেন, যার সর্বশেষ শিকার চেলসির লিয়াম রোসেনিয়র। মাত্র তিন মাস দায়িত্ব পালন করার পর চেলসির মার্কিন মালিকপক্ষ তাকে বরখাস্ত করেছে, যা ক্লাবটির অস্থিতিশীল পরিস্থিতিরই ইঙ্গিত দেয়।
বর্তমানে তিনটি বড় ক্লাব—চেলসি, ক্রিস্টাল প্যালেস এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড—তাদের স্থায়ী কোচের সন্ধানে রয়েছে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে রুবেন আমোরিমের বিদায়ের পর অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে মাইকেল ক্যারিক বেশ প্রশংসনীয় কাজ করছেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কোয়ালিফাই করার সম্ভাবনা ক্যারিকের স্থায়ী হওয়ার দাবিকে শক্তিশালী করলেও ক্লাবের একটি পক্ষ মনে করছে, ইউনাইটেডের মতো বিশাল ক্লাবের চাপ সামলানোর জন্য আরও অভিজ্ঞ কোনো বড় নাম প্রয়োজন। অন্যদিকে চেলসি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীর সাথে আলোচনায় না বসলেও তারা বোর্নমাউথের সাবেক বস আন্দোনি ইরাওলার ওপর নজর রাখছে। ফুলহ্যামের মার্কো সিলভাও তাদের সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন।
ক্রিস্টাল প্যালেসের পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। অলিভার গ্লাসনার মৌসুম শেষে বিদায় নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন। প্যালেস কর্তৃপক্ষও ইরাওলার প্রতি আগ্রহী এবং তাকে দলে টানতে পারলে ক্লাবের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের প্রভাব খাটাতে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। এই দৌড়ে ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড, টমাস ফ্রাঙ্ক এবং কাইরান ম্যাককেনার নামও শোনা যাচ্ছে। এদিকে লিভারপুলের আরনে স্লট এবং নিউক্যাসলের এডি হাও বর্তমানে চরম চাপের মুখে রয়েছেন। লিভারপুলের সমর্থকদের একটি অংশ স্লটের ওপর অসন্তুষ্ট হলেও ক্লাব কর্তৃপক্ষ আপাতত তার ওপর আস্থা রাখছে। তবে জাভি আলোনসোর মতো বড় নাম যখন হাতের নাগালে, তখন লিভারপুল কতদিন ধৈর্য ধরবে তা বলা কঠিন।
সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা কাজ করছে ম্যানচেস্টার সিটির কিংবদন্তি কোচ পেপ গার্দিওলাকে নিয়ে। আগামী মৌসুমে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে, তবে ফুটবল মহলে গুঞ্জন যে তিনি হয়তো এই গ্রীষ্মেই সিটি ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সিটি কর্তৃপক্ষ তাকে ধরে রাখতে চাইলেও তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বায়ার্ন মিউনিখের ভিনসেন্ট কোম্পানির নাম ইতিমধ্যেই জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। এছাড়া ফুলহ্যামে মার্কো সিলভার চুক্তির মেয়াদ জুনে শেষ হচ্ছে, যা ক্লাবটিকে নতুন এক সঙ্কটে ফেলতে পারে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও রদবদলের ছায়া দীর্ঘ হচ্ছে। আসন্ন বিশ্বকাপের পর টমাস টুখেল (ইংল্যান্ড), কার্লো আনচেলত্তি (ব্রাজিল), মরিসিও পচেত্তিনো (যুক্তরাষ্ট্র) এবং জুলিয়ান নাগেলসম্যানদের মতো বড় মাপের কোচদের ক্লাব ফুটবলে ফেরার পথ প্রশস্ত হতে পারে। বিশেষ করে বিশ্বকাপে কোনো বড় দলের ব্যর্থতা সরাসরি প্রিমিয়ার লিগের ম্যানেজার মার্কেটে প্রভাব ফেলবে। সব মিলিয়ে ইউরোপীয় ফুটবলের ডাগআউটে এক বিশাল ঝড়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে, যা আগামী কয়েক মাসে অনেক প্রতিষ্ঠিত কোচের ভাগ্য বদলে দেবে।
