সিরিজ নির্ধারণী শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৫৫ রানে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগেই আধিপত্য বিস্তার করে স্বাগতিকরা এই দুর্দান্ত জয় তুলে নেয়। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে নাজমুল হোসেন শান্তর অনবদ্য সেঞ্চুরি এবং পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের দারুণ বোলিংয়ের সুবাদে জয় নিশ্চিত করে টাইগাররা। ইএসপিএন ক্রিকইনফো এবং দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউজিল্যান্ড শুরু থেকে লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বেশিরভাগ সময় বাংলাদেশের হাতেই ছিল।
প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশ নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৬৫ রান সংগ্রহ করে। ইনিংসের শুরুতে নিউজিল্যান্ডের পেসার উইল ও’রুর্ক দারুণ বোলিং করে স্বাগতিকদের কিছুটা চাপে ফেলেছিলেন। তিনি ৩২ রান দিয়ে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। তবে প্রাথমিক সেই চাপ দারুণ দক্ষতায় সামলে নেন নাজমুল হোসেন শান্ত এবং লিটন দাস। শান্ত ১১৯ বল মোকাবিলা করে ১০৫ রানের একটি দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। অন্যদিকে লিটন দাসের ব্যাট থেকে আসে ৭৬ রান। এই দুজনের জুটিতে ভর করেই বাংলাদেশ একটি সম্মানজনক ও লড়াকু স্কোরে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। শেষদিকে তাওহিদ হৃদয়ের ৩৩ এবং মেহেদী হাসান মিরাজের ২২ রান দলীয় স্কোরকে আড়াইশ পার করতে সাহায্য করে। লিস্টার এবং লেনক্স কিউইদের হয়ে দুটি করে উইকেট লাভ করেন।
২৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ড শুরুটা ভালো করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে তারা চাপে পড়ে যায়। নিক কেলি ৫৯ রান করে আউট হওয়ার পর কিউইদের ব্যাটিং লাইনআপে ছোটখাটো ধস নামে। এরপর দলের হাল ধরেন ডিন ফক্সক্রফট। তিনি এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান এবং ৭২ বলে ৭৫ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। তবে অপর প্রান্তে পর্যাপ্ত কোনো সঙ্গীর অভাবে তার এই চেষ্টা শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারেনি। আব্বাসের ২৫ রান ছাড়া অন্য কোনো ব্যাটার উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত ৪৪ ওভার ৫ বলে ২১০ রান তুলে অলআউট হয়ে যায় সফরকারীরা। ফক্সক্রফট শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হওয়ার মাধ্যমেই বাংলাদেশের সিরিজ জয় নিশ্চিত হয়।
বাংলাদেশের জয়ে বল হাতে মূল ভূমিকা পালন করেন বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। সিরিজে প্রথমবারের মতো মাঠে নেমেই তিনি তার চেনা ছন্দে ফেরেন এবং ৪৩ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে কিউইদের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন তরুণ ফাস্ট বোলার নাহিদ রানা এবং স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। তারা উভয়েই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দুটি করে উইকেট লাভ করেন। পুরো সিরিজে আগ্রাসী বোলিং করে মোট ৮ উইকেট শিকার করার সুবাদে প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ নির্বাচিত হন নাহিদ রানা। অন্যদিকে, দলের বিপর্যয়ের মুখে দুর্দান্ত সেঞ্চুরির কারণে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন নাজমুল হোসেন শান্ত। এই জয় আসন্ন আন্তর্জাতিক সূচির আগে বাংলাদেশ দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
