রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

বিশ্ব শিরোপার দৌড়ে জর্জ রাসেল: মার্সিডিজের আধিপত্য ও এফ-ওয়ানের নতুন নিয়ম

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ০১:০৪ এএম

বিশ্ব শিরোপার দৌড়ে জর্জ রাসেল: মার্সিডিজের আধিপত্য ও এফ-ওয়ানের নতুন নিয়ম

ফর্মুলা ওয়ানের দ্রুততম ট্র্যাকে পা রাখার পর থেকে জর্জ রাসেল যে মুহূর্তটির জন্য অপেক্ষা করছিলেন, চার বছর পর অবশেষে সেই সুযোগ তাঁর সামনে। ২০২৬ সিজনের তিন রেস শেষ হওয়ার পর দেখা যাচ্ছে, রাসেল এখন বিশ্ব শিরোপার একজন অন্যতম দাবিদার। সিলভারস্টোনে একটি নতুন কার্টিং সেন্টার উদ্বোধনকালে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ২৮ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ ড্রাইভার জানিয়েছেন, শিরোপার দৌড়ে থাকলেও তাঁর মানসিকতায় কোনো নাটকীয় পরিবর্তন আসেনি। বরং শৈশব থেকে কার্টিং ট্র্যাকে যে লড়াই তিনি করে এসেছেন, সেই একই প্রক্রিয়াই তিনি এখন এফ-ওয়ান গ্রিডে অনুসরণ করছেন।

মার্সিডিজের হয়ে রাসেলের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০২২ সালে। সেই সময় লুইস হ্যামিল্টনের সতীর্থ হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন। তবে মার্সিডিজের তৎকালীন ফর্মের ওঠানামার কারণে শিরোপার জন্য লড়াই করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। এ বছর মার্সিডিজ আবারও গ্রিডের শীর্ষে ফিরে এসেছে। বর্তমানে ড্রাইভারস চ্যাম্পিয়নশিপে রাসেল তাঁর ১৯ বছর বয়সী সতীর্থ কিমি আন্তোনেল্লির চেয়ে মাত্র ৯ পয়েন্ট পিছিয়ে আছেন। তরুণ ইতালীয় আন্তোনেল্লি ইতিমধ্যেই দুটি রেস জিতে রাসেলের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন। তবে রাসেল এতে বিচলিত নন। তাঁর মতে, সতীর্থের সাথে এই লড়াই কেবল খেলাটিকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলছে।

চলতি সিজনে এফ-ওয়ানে নতুন প্রযুক্তিগত নিয়ম চালু হয়েছে, যা নিয়ে চালকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিশেষ করে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ম্যাক্স ভার্সটাপেন এই নিয়মগুলোকে ‍‍`মারিও কার্ট‍‍` বা ‍‍`অ্যান্টি-রেসিং‍‍` বলে কঠোর সমালোচনা করেছেন। নতুন ইঞ্জিনে অভ্যন্তরীণ দহন এবং বৈদ্যুতিক শক্তির ৫০-৫০ ভাগ বিভাজন করা হয়েছে, যা ড্রাইভারদের এনার্জি ম্যানেজমেন্ট বা শক্তি ব্যবস্থাপনায় অনেক বেশি সময় ব্যয় করতে বাধ্য করছে। তবে রাসেল এই সমালোচনার সাথে একমত নন। তিনি মনে করেন, এই নিয়মগুলো রেসিংয়ে আরও বেশি ওভারটেকিং বা একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে, যা দর্শক ও চালক উভয়ের জন্যই রোমাঞ্চকর।

রাসেল গ্র্যান্ড প্রিক্স ড্রাইভারস অ্যাসোসিয়েশনের (GPDA) পরিচালক হিসেবে নিয়ম প্রণেতাদের সাথে নিয়মিত আলোচনা করছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, নতুন নিয়মের কিছু ছোটখাটো অসংগতি ইতিমধ্যেই ফিফা (FIA) সংশোধন করতে শুরু করেছে। মিয়ামি গ্র্যান্ড প্রিক্স থেকে কোয়ালিফাইং ল্যাপে চালকরা কোনো এনার্জি ম্যানেজমেন্ট ছাড়াই পূর্ণ গতিতে গাড়ি চালাতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। রাসেলের মতে, ২০ বছর আগে ইঞ্জিনের গর্জন থাকলেও ট্র্যাকে ওভারটেকিংয়ের সুযোগ ছিল না, যা রেসিংকে একঘেয়ে করে তুলত। বর্তমান নিয়মগুলো সেই একঘেয়েমি কাটিয়ে রেসিংকে আরও গতিশীল করেছে।

ভবিষ্যৎ নিয়ে রাসেলের পরিকল্পনা বেশ স্পষ্ট। ২০২৭ সাল পর্যন্ত মার্সিডিজের সাথে তাঁর চুক্তি থাকলেও তা মূলত পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে মার্সিডিজ যে ফর্মে আছে, তাতে তাঁর চুক্তি নবায়ন হওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার। রাসেলের লক্ষ্য এখন একটাই—প্রতিটি রেস জেতা এবং শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নশিপ ট্রফি নিজের করে নেওয়া। ম্যাক্স ভার্সটাপেনের মতো অভিজ্ঞ ড্রাইভারদের সাথে লড়াই করতে মুখিয়ে আছেন তিনি। রাসেল বিশ্বাস করেন, যখন প্রতিযোগিতা কঠিন হয়, তখনই জয়ের আনন্দ সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। ২০২৬ সিজন তাই জর্জ রাসেলের ক্যারিয়ারের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট হতে চলেছে।

banner
Link copied!