বাস্কেটবল বিশ্বের জীবন্ত কিংবদন্তি লেব্রন জেমস আরও একবার প্রমাণ করলেন কেন তাকে সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে গণ্য করা হয়। ৪১ বছর বয়সে নিজের ১৯তম পোস্ট-সিজনে খেলতে নেমে হিউস্টন রকেটসের বিপক্ষে লস অ্যাঞ্জেলেস লেকার্সকে এক রুদ্ধশ্বাস জয় উপহার দিয়েছেন এই সুপারস্টার।
শুক্রবার রাতে অনুষ্ঠিত ওয়েস্টান কনফারেন্সের এই ম্যাচে ওভারটাইমে ১১২-১০৮ ব্যবধানে জয় পায় লেকার্স, যার ফলে সাত ম্যাচের সিরিজে তারা এখন ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। এনবিএর ইতিহাসে কোনো দলই ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর সিরিজ জিততে পারেনি, ফলে লেকার্সের সেমিফাইনালে ওঠা এখন কেবল সময়ের ব্যাপার বলে মনে হচ্ছে।
ম্যাচের নির্ধারিত সময়ে শেষ ১৩.৬ সেকেন্ড বাকি থাকতে লেব্রন জেমসের একটি দুর্দান্ত স্টিল এবং সমতাসূচক থ্রি-পয়ন্টার ম্যাচটিকে ওভারটাইমে নিয়ে যায়। পুরো ম্যাচে ২৯ পয়েন্ট সংগ্রহের পাশাপাশি ১৩টি রিবাউন্ড এবং ৬টি অ্যাসিস্ট করেন তিনি।
যদিও শেষ মুহূর্তে জয়ের সুযোগ হাতছাড়া হয়েছিল, কিন্তু ওভারটাইমে লেব্রন জেমস তার অভিজ্ঞতা এবং শারীরিক দক্ষতার পরিচয় দিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। লুইকা ডনচিচ এবং অস্টিন রিভসের মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের চোটের কারণে অনুপস্থিতিতে লেকার্সের এই জয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অন্যদিকে হিউস্টন রকেটসের হয়ে আলপেরেন সেনগুন ৩৩ পয়েন্ট এবং ১৬ রিবাউন্ড নিয়ে লড়াই করলেও দলের হার এড়াতে পারেননি।
একই রাতে ইস্টার্ন কনফারেন্সের সেমিফাইনালে ফিলাডেলফিয়া সেভেন্টি সিক্সার্সের মুখোমুখি হয়েছিল বোস্টন সেলটিকস। ফিলাডেলফিয়ার ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ১০৮-১০০ ব্যবধানে জয় পেয়েছে সেলটিকস।
দলের দুই প্রধান তারকা জেসন টেটাম এবং জেইলিন ব্রাউন ২৫ পয়েন্ট করে সংগ্রহ করে জয়ের পথ প্রশস্ত করেন। গত বছরের প্লেঅফে গুরুতর চোট কাটিয়ে ফেরার পর টেটামের এই পারফরম্যান্স বোস্টন সমর্থকদের মনে আশার আলো জাগিয়েছে।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে টেটামের একটি কার্যকরী থ্রি-পয়ন্টার সেলটিকসের জয় নিশ্চিত করে। ফিলাডেলফিয়ার পক্ষে টাইরেস ম্যাক্সি ৩১ পয়েন্ট পেলেও চোটের কারণে জোয়েল এমবিডের অনুপস্থিতি তাদের ভুগিয়েছে।
অন্যদিকে সান আন্তোনিও স্পার্স তাদের নতুন সুপারস্টার ভিক্টর ওয়েম্বানিয়ামাকে ছাড়াই পোর্টল্যান্ড ট্রেইল ব্লেজার্সকে ১২০-১০৮ ব্যবধানে পরাজিত করেছে। কনকাশন বা মাথায় আঘাতজনিত সমস্যার কারণে এই ম্যাচে খেলতে পারেননি ওয়েম্বানিয়ামা।
তবে তার অনুপস্থিতি বুঝতে দেননি স্টিফেন ক্যাসল। তিনি একাই ৩৩ পয়েন্ট সংগ্রহ করে দলকে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। স্পার্সের কোচ মিচ জনসন জানিয়েছেন যে ওয়েম্বানিয়ামার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে, তবে পরবর্তী ম্যাচে তিনি ফিরবেন কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়। স্পার্স দলগত প্রচেষ্টায় ১৫ পয়েন্টের ব্যবধান ঘুচিয়ে এই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে।
হিউস্টন রকেটসের বিপক্ষে লেকার্সের হয়ে মার্কাস স্মার্টের অবদানও ছিল চোখে পড়ার মতো। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্রি-থ্রো এবং ওভারটাইমে আট পয়েন্ট করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি।
হিউস্টন রকেটস ম্যাচে বেশ কয়েকবার লিড নিলেও শেষ মুহূর্তের কিছু ভুল এবং অভিজ্ঞতার অভাবে জয় বঞ্চিত হয়েছে। আগামী রবিবার হিউস্টনের মাঠেই সিরিজের চতুর্থ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। সেই ম্যাচে জয় পেলে লেকার্স সরাসরি পরবর্তী রাউন্ডে চলে যাবে। আন্তর্জাতিক বাস্কেটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন, লেব্রন জেমসের বর্তমান ফর্ম বজায় থাকলে লেকার্স এবার শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।
