রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

দুঃসময় কাটিয়ে জয়ে ফিরল চেলসি: এনজোর লক্ষ্যভেদে নিশ্চিত হলো ফাইনাল

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম

দুঃসময় কাটিয়ে জয়ে ফিরল চেলসি: এনজোর লক্ষ্যভেদে নিশ্চিত হলো ফাইনাল

দুঃসময় কাটিয়ে ফাইনালে চেলসি! ছবি : সংগৃহীত

লন্ডনের স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের দীর্ঘস্থায়ী হতাশা কাটিয়ে অবশেষে সাফল্যের মুখ দেখল চেলসি। সোমবার রাতে এফএ কাপের সেমিফাইনালে লিডস ইউনাইটেডকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রতিযোগিতার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ব্লুজরা। দলের অধিনায়ক এনজোর করা একমাত্র এবং জয়সূচক গোলটি চেলসি শিবিরে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। 

সাম্প্রতিক সময়ে মাঠ ও মাঠের বাইরের টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে এই জয়টি চেলসির জন্য কেবল একটি জয় নয় বরং নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর এক বড় অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফাইনালে তাদের জন্য এখন অপেক্ষা করছে বর্তমান ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী শক্তি ম্যানচেস্টার সিটি।

চেলসির এই জয়টি এমন এক সময়ে এল যখন ক্লাবটি তাদের ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময় পার করছে। মাত্র চার দিন আগে টানা ব্যর্থতার দায়ে প্রধান কোচ লিয়াম রোজেনিওরকে বরখাস্ত করেছিল চেলসি কর্তৃপক্ষ। অন্তর্বর্তীকালীন কোচ ক্যালাম ম্যাকফারলেনের অধীনে এটিই ছিল দলের প্রথম অগ্নিপরীক্ষা। 

গত আট ম্যাচের মধ্যে সাতটিতেই হারার পর চেলসির আত্মবিশ্বাস তখন তলানিতে ছিল। তবে ম্যাকফারলেনের সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগ এবং এনজোর অধিনায়কসুলভ নেতৃত্ব লিডসের শক্তিশালী আক্রমণভাগকে রুখে দিতে সক্ষম হয়েছে। ম্যাচের শুরু থেকেই লিডস বেশ আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল যা চেলসি রক্ষণভাগকে শুরুতেই বেশ চাপে ফেলে দিয়েছিল।

ম্যাচের প্রথমার্ধে লিডসের স্ট্রাইকার ডমিনিক কালভার্ট-লেভিন এবং ব্রেন্ডন আরোনসোনের সমন্বিত আক্রমণগুলো চেলসির গোলরক্ষক রবার্ট সানচেজ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে প্রতিহত করেন। বিশেষ করে আরোনসোনের একটি নিচু শট সানচেজ যেভাবে রুখে দিয়েছেন তা ছিল দেখার মতো। অন্যদিকে চেলসিও পাল্টা আক্রমণের সুযোগ খুঁজছিল। 

ম্যাচের ২৩তম মিনিটে চেলসি সেই কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়। মাঝমাঠে লিডসের ফুটবলার পাসকাল স্ট্রুজিক বলের নিয়ন্ত্রণ হারালে দ্রুত আক্রমণে ওঠে চেলসি। পেদ্রো নেতোর নিখুঁত একটি ক্রস থেকে দর্শনীয় হেডে লিডসের জাল কাঁপান এনজো। এটি চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে আর্জেন্টাইন এই তারকার ১৩তম গোল।

গোলের পর লিডস সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। তবে চেলসির রক্ষণভাগ এদিন ছিল অত্যন্ত জমাট। জোয়াও পেদ্রোর একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে না আসলে চেলসির জয়ের ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। কিন্তু এক গোলের লিড ধরে রাখাই ছিল চেলসির মূল লক্ষ্য এবং শেষ পর্যন্ত তারা তা সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছে। এই জয়টি সমর্থকদের কাছেও ছিল বিশেষ কিছু। 

দীর্ঘদিনের পরাজয়ের গ্লানি ভুলে ফাইনালে ওঠার আনন্দ গ্যালারিতে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছিল। এখন ফুটবল বিশ্বের নজর থাকবে ওয়েম্বলির সেই মেগা ফাইনালের দিকে যেখানে পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটির মোকাবিলা করবে চেলসি। এই ম্যাচটি চেলসির জন্য কেবল শিরোপা জয়ের লড়াই নয় বরং হারানো গৌরব ফিরে পাওয়ার চূড়ান্ত পরীক্ষা।

banner
Link copied!