চাট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দাপুটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ১৮৩ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৪ উইকেট হারিয়ে এবং ১২ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
এই বিশাল জয়ের পেছনের মূল কারিগর ছিলেন তরুণ মিডল অর্ডার ব্যাটার তাওহীদ হৃদয়। তিনি মাত্র ২৭ বলে ৫১ রানের একটি হার না মানা বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন যা কিউই বোলারদের লাইন-লেন্থ এলোমেলো করে দেয়। ম্যাচ শেষে হৃদয় তার এই সাফল্যের নেপথ্যের গল্প শুনিয়েছেন এবং জানিয়েছেন চাপের মুখে কেন তিনি আগ্রাসী ব্যাটিং বেছে নিয়েছিলেন।
নিউজিল্যান্ডের দেওয়া মাঝারি মানের শক্তিশালী লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের মাঝপথে কিছুটা চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ। প্রয়োজনীয় রান রেট যখন বাড়ছিল তখন ক্রিজে এসে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন হৃদয়। তার এই ঝড়ো ইনিংসে ছিল দুটি চার ও তিনটি দৃষ্টিনন্দন ছক্কার মার।
হৃদয় জানান যে মাঠে নামার সময় তার মাথায় কেবল একটি পরিকল্পনাই ছিল এবং তা হলো পরিস্থিতির দাবি মেটানো। উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ সহায়ক ছিল এবং সেই সুযোগটি তিনি শতভাগ কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন। বোলারদের ওপর শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করার বিষয়টি তার জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে এনেছে।
হৃদয়ের মতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টিকে থাকতে হলে মানসিক দৃঢ়তা অত্যন্ত জরুরি। তিনি একটি প্রচলিত তত্ত্বে বিশ্বাস করেন যা হলো আক্রমণই হলো আত্মরক্ষার সেরা উপায়। হৃদয় বলেন যে বিশ্বমঞ্চে যদি একজন ব্যাটসম্যান খুব বেশি রক্ষণাত্মক মানসিকতা নিয়ে উইকেটে পড়ে থাকেন তবে সফল হওয়া প্রায় অসম্ভব।
নিউজিল্যান্ডের বোলিং আক্রমণ যখন ডট বল দিয়ে চাপ তৈরির চেষ্টা করছিল তখন হৃদয় চড়াও হয়ে সেই চাপ উল্টো প্রতিপক্ষের ওপর ফিরিয়ে দেন। তিনি মনে করেন যখন রান রেট আকাশচুম্বী হতে থাকে তখন রক্ষণাত্মক হয়ে উইকেট বাঁচানোর চেয়ে বাউন্ডারি খোঁজা বেশি কার্যকর।
এই ম্যাচে জয়ের ভিত গড়ে দিতে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমনও। হৃদয়ের মতে ইমনের পরিষ্কার চিন্তাভাবনা এবং আগ্রাসী শুরু তাদের জন্য কাজ সহজ করে দিয়েছে। মাঠের ভেতরে সতীর্থদের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়টিও কাজ করেছে দারুণভাবে।
হৃদয় এবং ইমন মিলে কিউই স্পিনারদের ওপর যে চাপ তৈরি করেছিলেন তা ইনিংসের শেষ পর্যন্ত বজায় ছিল। তবে শুরুটা ভালো হলেও পাওয়ারপ্লেতে টপ অর্ডারের কয়েকজনের বিদায় কিছুটা দুশ্চিন্তার কারণ হয়েছিল। হৃদয় এই বিষয়টিকে ক্রিকেটের একটি নিয়মিত অংশ হিসেবে দেখছেন এবং মনে করেন প্রতিটি ম্যাচেই টপ অর্ডার সফল হবে এমন ভাবা ঠিক নয়।
দলের অন্য সদস্যদের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে হৃদয় জানান যে যেদিন টপ অর্ডার রান পাবে না সেদিন মিডল অর্ডারের দায়িত্ব বেড়ে যায়। তিনি নিজের দায়িত্ব পালন করতে পেরে আলহামদুলিল্লাহ বলছেন। চাট্টগ্রামের গ্যালারি ভর্তি দর্শকদের সামনে এমন একটি ইনিংস খেলা তার জন্য বিশেষ কিছু ছিল।
শেষ দিকে শামীম হোসেন পাটোয়ারির ক্যামিও ইনিংসটিও জয়ের পথকে মখমল করে দেয়। শামীম মাত্র ১৩ বলে ৩১ রান করে অপরাজিত থাকেন যা হৃদয়ের ওপর থেকে স্ট্রাইক রেটের চাপ কমিয়ে দেয়। হৃদয় তার সতীর্থের এই পারফরম্যান্সে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন এবং দলের এমন সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তিনি বেশ আনন্দিত।
নিউজিল্যান্ড দল বর্তমান সফরে তাদের মূল শক্তির কয়েকজনকে ছাড়াই বাংলাদেশে এসেছে। তবে প্রতিপক্ষ যেমনই হোক জয়টা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং বড় স্কোর তাড়া করে জেতার আত্মবিশ্বাস দলের জন্য বড় পাওনা।
হৃদয়ের এই সাহসী ব্যাটিং এবং ম্যাচ শেষে তার পরিপক্ক মন্তব্য ক্রিকেট বিশ্লেষকদের প্রশংসা কুড়াচ্ছে। এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। সিরিজের পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও এই একই মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামতে চায় টাইগাররা।
