রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

ফুটবলে গোলরক্ষকদের ‘কৌশলী ইনজুরি’ ঠেকাতে আসছে ৪ নতুন নিয়ম

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম

ফুটবলে গোলরক্ষকদের ‘কৌশলী ইনজুরি’ ঠেকাতে আসছে ৪ নতুন নিয়ম

ফুটবল মাঠে বর্তমানে সবচেয়ে বিরক্তিকর দৃশ্যগুলোর একটি হলো গোলরক্ষকদের হঠাৎ মাটিতে বসে পড়া। যখনই কোনো দল প্রতিপক্ষের চাপে নাস্তানাবুদ হয় কিংবা কোচ তার খেলোয়াড়দের নতুন কোনো কৌশল বাতলে দিতে চান, তখনই দেখা যায় গোলরক্ষক ‘ইনজুরি’র অজুহাতে মাঠে শুয়ে পড়েছেন। এই ‘ট্যাকটিক্যাল টাইমআউট’ বা কৌশলী বিরতি ফুটবল বিশ্বকে দীর্ঘ দিন ধরে ভোগাচ্ছে। তবে ফুটবল আইনপ্রণেতা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড বা ইফাব (Ifab) এবার এই প্রবণতা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

সম্প্রতি চেলসি ও লিডস ইউনাইটেডের মধ্যকার এফএ কাপের সেমিফাইনালে চেলসি গোলরক্ষক রবার্ট সানচেজকে দেখা যায় হুট করে মাটিতে বসে পড়তে। রেফারি খেলা থামিয়ে ফিজিওকে ডাকতেই চেলসির বাকি ১০ জন খেলোয়াড় ডাগআউটে গিয়ে কোচের কাছ থেকে জরুরি পরামর্শ নিতে শুরু করেন। এই ঘটনা গ্যালারিতে থাকা লিডস সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে। এমনকি লিডস অধিনায়ক ইথান আম্পাডু সরাসরি চেলসির টিম টকে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেন। বর্তমান ফুটবল আইনে রেফারির পক্ষে এটি বোঝা প্রায় অসম্ভব যে খেলোয়াড়টি সত্যিই আহত নাকি নাটক করছেন। ভুল সিদ্ধান্তের ফলে কোনো খেলোয়াড় বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন, এমন আশঙ্কায় রেফারিরা সাধারণত চিকিৎসকদের অনুমতি দেন।

বিবিসি ও রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সমস্যা সমাধানে আগামী ২০২৬-২৭ মৌসুমে চারটি সম্ভাব্য নিয়মের ট্রায়াল বা পরীক্ষা চালানোর প্রস্তাব দিয়েছে ইফাব। এই ট্রায়ালগুলো সফল হলে ফুটবলের মূল আইনে এগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বর্তমানে ওমেন’স সুপার লিগ (WSL) এই ট্রায়ালে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

প্রথম প্রস্তাবে বলা হয়েছে, যদি কোনো গোলরক্ষক মাঠে চিকিৎসার প্রয়োজন অনুভব করেন, তবে সেই দলের একজন আউটফিল্ড খেলোয়াড়কে (গোলরক্ষক ছাড়া অন্য কেউ) বাধ্যতামূলকভাবে এক মিনিটের জন্য মাঠের বাইরে চলে যেতে হবে। এতে গোলরক্ষক বিরতি নিলেও তার দল সাময়িকভাবে ১০ জনে পরিণত হবে, যা কোচের জন্য একটি বড় ঝুঁকি হবে। দ্বিতীয় প্রস্তাবে এই সময়সীমা বাড়িয়ে দুই মিনিট করার কথা বলা হয়েছে। যারা মনে করেন এক মিনিটের শাস্তি যথেষ্ট নয়, তারা এই কঠোর আইনের পক্ষে সওয়াল করছেন।

তৃতীয় প্রস্তাবটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওমেন’স সকার লিগ (NWSL) ইতিমধ্যে পরীক্ষা করছে। সেখানে নিয়ম করা হয়েছে যে, গোলরক্ষকের ইনজুরির সময় কোনো খেলোয়াড় ডাগআউট বা টেকনিক্যাল এরিয়ায় কোচের কাছে যেতে পারবেন না। খেলোয়াড়দের হয় নিজেদের পজিশনে থাকতে হবে, নতুবা সেন্টার সার্কেলের পাশে জড়ো হতে হবে। যদি কেউ কোচের কাছে যায়, তবে দল বা কোচকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। চতুর্থ প্রস্তাবটি হলো প্রথম ও তৃতীয় প্রস্তাবের একটি সংমিশ্রণ। অর্থাৎ খেলোয়াড়রা ডাগআউটে যেতে পারবেন না এবং একজন খেলোয়াড়কে এক মিনিটের জন্য মাঠের বাইরেও থাকতে হবে।

ফুটবল বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গোলরক্ষকদের এই কৌশলী বিরতি খেলার গতি নষ্ট করে দেয়। গত নভেম্বরে ম্যানচেস্টার সিটি ও লিডসের ম্যাচে সিটির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি ডনাবুম্মার বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ তুলেছিলেন কোচ ড্যানিয়েল ফার্কে। ফুটবলের সৌন্দর্য রক্ষা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই নতুন নিয়মগুলো কার্যকর হওয়া সময়ের দাবি বলে মনে করছে বিশ্ব ফুটবল সংশ্লিষ্ট মহল। ইফাব ২০২৭ সালের মার্চ মাসে এই পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

banner
Link copied!