স্প্যানিশ ফুটবলের দ্বিতীয় স্তর লা লিগা ২-তে ঘটে যাওয়া এক নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার জেরে বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়েছেন রিয়াল জারাগোজার গোলরক্ষক এস্তেবান আন্দ্রাদা। গত সপ্তাহে হুয়েস্কার বিপক্ষে ডার্বি ম্যাচে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে ঘুষি মারার অভিযোগে তাকে ১৩ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন বা আরএফইএফ।
বুধবার ফেডারেশনের ডিসিপ্লিনারি কমিটি এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। ৩৫ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক বর্তমানে মেক্সিকান ক্লাব মন্টেরি থেকে ধারে জারাগোজায় খেলছেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় জারাগোজা ও হুয়েস্কার মধ্যকার উত্তেজনাপূর্ণ ডার্বি ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে। ম্যাচটিতে জারাগোজা ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল। খেলার ৯৯ মিনিটে আন্দ্রাদা দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ পান। তবে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে তিনি হুট করেই উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং হুয়েস্কার অধিনায়ক হোর্হে পুলিদোর মুখে সজোরে ঘুষি মারেন।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার পরপরই মাঠের ভেতরে দুই দলের খেলোয়াড় এবং স্টাফদের মধ্যে ব্যাপক হাতাহাতি ও বিশৃঙ্খলা শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয় এবং আন্দ্রাদাকে পুলিশি পাহারায় ড্রেসিংরুমে নিয়ে যাওয়া হয়।
আরএফইএফ-এর ডিসিপ্লিনারি কমিটির রায়ে বলা হয়েছে যে আন্দ্রাদার এই আচরণ গুরুতর অপরাধের শামিল। তার এই শারীরিক আক্রমণের জন্য তাকে সর্বোচ্চ ১২ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে লাল কার্ডের জন্য স্বয়ংক্রিয় এক ম্যাচের স্থগিতাদেশ।
সব মিলিয়ে আগামী ১৩টি ম্যাচে জারাগোজার হয়ে মাঠে নামতে পারবেন না এই আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক। যদিও আন্দ্রাদা পরবর্তীতে তার এই আচরণের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন তবে ফেডারেশন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কোনো প্রকার শিথিলতা প্রদর্শন করেনি।এই সংঘর্ষের ঘটনায় কেবল আন্দ্রাদাই শাস্তি পাননি বরং আরও কয়েকজন খেলোয়াড়কে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। হুয়েস্কার গোলরক্ষক দানি জিমেনেজকে চার ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে যে আন্দ্রাদার ঘুষির প্রতিক্রিয়ায় তিনিও পাল্টা আক্রমণে জড়িয়েছিলেন। অন্যদিকে ভিএআর বা ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির পরীক্ষার পর জারাগোজার দানি তাসেন্দেকে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে কারণ তিনি ঝগড়ার সময় প্রতিপক্ষের পায়ে লাথি মেরেছিলেন। এই সবকটি সিদ্ধান্তই বর্তমানে আপিল করার যোগ্য বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্প্যানিশ ফুটবলে শৃঙ্খলার প্রশ্নে ফেডারেশন যে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে তার প্রমাণ পাওয়া গেছে রায়ো ভায়োকানোর খেলোয়াড় ইসি পালাজোনের শাস্তিতেও। গত রবিবার রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে ম্যাচের পর রেফারির বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশের দায়ে পালাজোনকে সাত ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ফুটবল বোদ্ধাদের মতে আরএফইএফ-এর এই কঠোর অবস্থান স্প্যানিশ ফুটবলে খেলোয়াড়দের আচরণ এবং মাঠের শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী বার্তা দেবে। জারাগোজার জন্য আন্দ্রাদার এই অনুপস্থিতি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে কারণ লা লিগা ২-এর পয়েন্ট তালিকায় টিকে থাকার লড়াইয়ে তিনি ছিলেন দলের অন্যতম ভরসা।
