রবিবার, ০৫ জুলাই, ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এতটা স্মার্ট নয়: ইয়ান লেকুন

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ৪, ২০২৬, ১১:৩২ পিএম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এতটা স্মার্ট নয়: ইয়ান লেকুন

প্যারিসে অনুষ্ঠিত এক প্রযুক্তি সম্মেলনে মেটার সাবেক প্রধান এআই বিজ্ঞানী ইয়ান লেকুন বলেছেন, বর্তমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি বাস্তব জগতের জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষম নয়, বিবিসি নিউজ এমনটি জানিয়েছে। ভিভাটেক নামের ওই সম্মেলনে তিনি মন্তব্য করেন যে, চারপাশের শারীরিক বিশ্বকে বোঝার ক্ষেত্রে বর্তমান যুগের অত্যাধুনিক রোবটগুলো একটি ইঁদুরের সমকক্ষও হতে পারেনি। এই সীমাবদ্ধতা দূর করতে তিনি এএমআই ল্যাবস নামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন, যা প্রচলিত লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের বাইরে গিয়ে নতুন ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে।

গত ২০২৫ সালে মেটা থেকে পদত্যাগের পর লেকুন এই নতুন উদ্যোগ শুরু করেন। তার মূল লক্ষ্য হলো এমন এআই তৈরি করা, যা মানুষের মতো বা অন্তত প্রাণীর মতো বুদ্ধিমত্তার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। তিনি বিশ্বাস করেন, চ্যাটজিপিটি, ক্লড বা জেমিনির মতো বর্তমান মডেলগুলো কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কাজে লাগলেও তারা মানুষের মতো চিন্তা করতে পারে না। এগুলো বাস্তব জগতের তথ্য বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়নি। তার মতে, বর্তমান মডেলগুলো মূলত বিশাল তথ্যভাণ্ডার মুখস্থ করে এবং নির্দেশ অনুযায়ী তা উগরে দেয়, কিন্তু এর পেছনে তাদের কোনো গভীর উপলব্ধি বা বোঝাপড়া থাকে না।

বাস্তব জগতে যেকোনো কাজের অসংখ্য সম্ভাব্য ফলাফল থাকতে পারে, যা মোকাবিলা করার জন্য আরও নমনীয় এআই প্রয়োজন। লেকুন একটি কলমের উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। একটি কলম সোজা করে দাঁড় করিয়ে ছেড়ে দিলে সেটি কোন দিকে পড়বে, তা কোনো মানুষ নির্দিষ্ট করে বলতে পারবে না। কিন্তু বর্তমান মডেলগুলো তাদের কাছে থাকা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে একটি পরিসংখ্যানগত উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবে, যা প্রায় নিশ্চিতভাবেই ভুল হবে। কারণ তারা বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা না করে কেবল গাণিতিক সম্ভাবনার ওপর নির্ভর করে কাজ করার চেষ্টা করে।

এই সমস্যার সমাধানে এএমআই ল্যাবস জয়েন্ট এমবেডিং প্রেডিকটিভ আর্কিটেকচার বা জিপা নামের একটি নতুন পদ্ধতি তৈরি করছে বলে ব্লুমবার্গ নিশ্চিত করেছে। এই পদ্ধতিটি বাস্তব জগতের অপ্রয়োজনীয় তথ্য ছেঁকে ফেলে কেবল দরকারি চিত্রটি এআই-এর কাছে তুলে ধরে। এর ফলে রোবটগুলো যেকোনো কাজের ফলাফল আগে থেকে কিছুটা হলেও অনুমান করতে পারে। যা কম স্পষ্ট তা হলো, এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি কবে নাগাদ বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসবে। বিশেষ করে গৃহস্থালির কাজে রোবট ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

নতুন এই প্রযুক্তিটি বিনিয়োগকারীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। চলতি বছরের শুরুতে এএমআই ল্যাবস ১০০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি তহবিল সংগ্রহ করেছে। এই বিনিয়োগকারীদের তালিকায় চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া এবং অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের সম্পদ ব্যবস্থাপনা তহবিলও রয়েছে। লেকুনের মতে, মানবাকৃতির রোবটগুলোকে ঘরের কাজ শেখানো বর্তমানে অত্যন্ত কঠিন ও ব্যয়বহুল। গৃহস্থালির কাজ যেমন কাপড় ইস্ত্রি করা বা ডিশওয়াশারে থালাবাসন সাজানোর মতো কাজগুলো রোবটকে দিয়ে করানো এখনো অনেক দূরের স্বপ্ন। বর্তমান লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলো এসব কাজে প্রায় অকেজো। তাই ভবিষ্যতের রোবটগুলোর জন্য এমন এআই অপরিহার্য হয়ে পড়বে যা কেবল গাণিতিক হিসাব নয়, বরং চারপাশের পরিবেশকে সঠিকভাবে বুঝতে ও প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।

banner
Link copied!