মার্কিন ধনকুবের মার্ক কিউবান সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে পেশাগত জীবনে সফল হওয়ার জন্য নিয়মিত জ্ঞানার্জন ও বই পড়া অত্যন্ত জরুরি। সিএনবিসি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যারা নিয়মিত পড়াশোনা করেন না তারা নিজেদের মানসিক পরিধি প্রসারের সুযোগ হারান। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় উদ্যোক্তা এবং সফল ব্যক্তিরা তাদের প্রতিদিনের রুটিনের একটি উল্লেখযোগ্য সময় বই পড়ার পেছনে ব্যয় করেন। ওয়ারেন বাফেট এবং বিল গেটসের মতো ব্যক্তিত্বরা নিয়মিত বই পড়ে তাদের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে চলেছেন। টাইম ম্যাগাজিনের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, সফল ব্যক্তিদের মধ্যে নিয়মিত পঠন অভ্যাস একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে লক্ষ্য করা যায়।
তবে বর্তমান কর্মব্যস্ত জীবনে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বই পড়ার জন্য আলাদা সময় বের করা অনেকের জন্যই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। কাজের চাপ, যাতায়াত এবং দৈনন্দিন অন্যান্য ব্যস্ততার কারণে অনেকেই বই পড়ার অভ্যাস ধরে রাখতে পারেন না। এই সমস্যার সমাধানে প্রযুক্তি দুনিয়ায় নতুন ধারণা নিয়ে হাজির হয়েছে বিভিন্ন ডিজিটাল শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম ও অ্যাপ্লিকেশন। এর মধ্যে ব্লিংকস্ট নামক একটি অ্যাপ্লিকেশন বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা শিক্ষামূলক বইগুলোর মূল সারসংক্ষেপ খুব কম সময়ে পড়তে বা শুনতে পারেন।
অ্যাপল কোম্পানির প্রধান নির্বাহী টিম কুক এবং প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের আধুনিক পঠন মাধ্যম তরুণ প্রজন্মকে নতুন কিছু শিখতে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সাহায্য করছে। বিশ্বজুড়ে লক্ষাধিক মানুষ এখন ঐতিহ্যগত পড়ার পাশাপাশি সংক্ষিপ্ত ডিজিটাল সারসংক্ষেপের সেবা গ্রহণ করছেন। বইয়ের প্রধান যুক্তি ও ধারণাগুলোকে সংক্ষিপ্ত আকারে উপস্থাপন করার ফলে কর্মব্যস্ত মানুষের পক্ষে নিয়মিত জ্ঞান অর্জন করা সহজ হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এই ধরনের প্রযুক্তি মানুষের অলস সময় বা সামাজিক মাধ্যমে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করার প্রবণতা কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
মনোবিজ্ঞান ও নিউরোসায়েন্সের নীতি অনুসরণ করে তৈরি করা এই ধরনের সংক্ষিপ্ত শিক্ষামূলক বিষয়বস্তু মানুষের স্মৃতিতে সহজে গেঁথে থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে যে ছোট আকারে উপস্থাপিত তথ্যগুলো দীর্ঘ সময় মনে রাখা সহজ হয়। এর ফলে ব্যবহারকারীরা কর্মক্ষেত্রে এবং ব্যক্তিগত জীবনে আরও বেশি উৎপাদনশীল হয়ে উঠতে পারছেন। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে ভবিষ্যতে শিক্ষার ডিজিটাল মাধ্যমগুলো মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাসে আরও বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসবে। দীর্ঘমেয়াদে বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ এবং মানসিক উৎকর্ষ সাধনে এই ধরনের উদ্যোগগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
