থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠে একটি স্বনামধন্য বিদ্যালয়ে ঘটিত এক রক্তক্ষয়ী বন্দুক হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ ত্রিশের অধিক মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার সপ্তাহের শেষ ক্লাসের কার্যক্রম চলাকালীন চৌদ্দ বছর বয়সী এক কিশোর এই ভয়াবহ হামলা চালায়। পুলিশ এবং দেশটির প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
হামলাকারী কিশোর প্রথমে তার বাসগৃহে নিজের দাদা-দাদিকে গুলি করে হত্যা করে। এরপর সে ব্যাংককের উপকণ্ঠে অবস্থিত দেমসিরিন বিদ্যালয়ের একটি স্থানীয় শাখায় প্রবেশ করে এবং এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল সাংবাদিকদের জানান যে আক্রমণকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। বিদ্যালয়টির অভ্যন্তরে পাঁচজন শিক্ষককে গুলি করে হত্যার পর ওই কিশোর নিজের ওপর অস্ত্র চালনা করে আত্মহত্যা করে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার সময় হামলাকারীর হাতে পর্যাপ্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদ ছিল।
জাতীয় পুলিশ প্রধান কিত্তিরাত্ত পানপেত সংবাদমাধ্যমকে জানান যে অপরাধীর গুলিবর্ষণের লক্ষ্যবস্তু অত্যন্ত নির্ভুল ছিল এবং বেশ কয়েকটি গুলি শিকারের সংবেদনশীল অঙ্গে আঘাত হেনেছে। প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল উল্লেখ করেছেন যে এই আক্রমণটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে পরিচালনা করা হয়েছিল। বিদ্যালয়টির নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিয়ে বর্তমানে দেশজুড়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী পুরো চত্বরে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল।
সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বিবিসিকে জানায় যে হামলার সময় সে শিক্ষকের ঠিক সামনে অবস্থান করছিল। বন্দুকধারী যখন কক্ষ থেকে কক্ষে ঘুরে বেড়াচ্ছিল, তখন সে শিক্ষককে গুলিবিদ্ধ হতে দেখে। অপর একজন শিক্ষার্থী রয়টার্সকে জানায় যে শুরুতে সে গুলির শব্দকে পটকা ফোটার শব্দ বলে মনে করেছিল। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয় এবং শিক্ষার্থীরা সীমানা প্রাচীর টপকে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। আহতদের দ্রুত বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে এবং চিকিৎসাধীনদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক রয়েছে।
পুলিশি তদন্তে জানা গেছে যে হামলায় ব্যবহৃত নাইন এমএম হ্যান্ডগানটি হামলাকারীর দাদার মালিকানাধীন ছিল, যিনি একজন প্রাক্তন শিক্ষক ছিলেন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসন এই অপ্রত্যাশিত ট্র্যাজেডির পেছনের মূল কারণ উদঘাটনে தீவிரভাবে কাজ করছে। দেশটিতে অস্ত্রের অবাধ প্রাপ্যতা এবং নিয়ন্ত্রণের শিথিলতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র প্রশ্ন উত্থাপিত হয়ে আসছে। এই ভয়াবহ ঘটনার পর সাধারণ মানুষ ও নিহতের স্বজনরা কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন। সীমান্ত নিরাপত্তা ও অস্ত্রের কালোবাজার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
দেমসিরিন বিদ্যালয়টি উনিশ শতকের শেষভাগে প্রতিষ্ঠিত একটি অত্যন্ত প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দেশটির বহু বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, কূটনীতিক এবং ক্রীড়াবিদ এই বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত। এই ধরনের প্রতিষ্ঠানে এমন নজিরবিহীন নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনায় পুরো জাতি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। সরকারের তরফ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
