দ্রুত অগ্রসরমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যাতে সার্বক্ষণিকভাবে মানুষের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে থাকে তা নিশ্চিত করতে বিশ্বব্যাপী একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক নজরদারি সংস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে বিশ্বের ২০টি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন শুরুর প্রাক্কালে সোমবার এই ঐতিহাসিক যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হয়। ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাবের কার্যালয় থেকে জারি করা এই সনদে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও সরকারগুলোর প্রতি আন্তর্জাতিক আইনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে অবিলম্বে সাধারণ নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে।
সনদে মানুষের অবিচ্ছেদ্য নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়।
ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে জার্মানি, দক্ষিণ আফ্রিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সিঙ্গাপুর। সেখানে স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই প্রযুক্তির সুফল যাতে কয়েকটি ধনী রাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আন্তর্জাতিক বৈষম্য বাড়িয়ে না দেয়, সেদিকে দৃষ্টি রেখে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নতুন উদ্যোগের আওতায় উন্নত মডেলগুলোর বিপজ্জনক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনার তথ্য পরস্পরের সাথে আদান-প্রদান করা এবং কোনো সফটওয়্যার নির্দিষ্ট সক্ষমতার সীমা অতিক্রম করলে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে আলোচনার টেবিলে আনার একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠান গড়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এই সনদে সই করেছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মারৎস, নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরে, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেইন, কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুতো, কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ত তোখায়েভ এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।
তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী দুই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এই সমন্বিত প্রস্তাবে যুক্ত হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আগামী বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে এক দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হবেন, যেখানে এই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রযুক্তিগত আধিপত্যের লড়াইয়ে লিপ্ত ওয়াশিংটন ও বেইজিং উভয়ের বিরুদ্ধেই নিরাপত্তার স্বার্থে উন্নয়ন প্রক্রিয়া ধীরগতির করার আন্তর্জাতিক আহ্বান অগ্রাহ্য করার অভিযোগ রয়েছে। অন্যান্য আগ্রহী রাষ্ট্রগুলোর স্বাক্ষরের জন্য খসড়া সনদটি এখনো উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
