শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি

‍‍`যন্ত্রের স্বর্গে মানবতা হারানোর ঝুঁকি‍‍` — পোপ লিও চতুর্দশ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ০৯:২২ পিএম

‍‍`যন্ত্রের স্বর্গে মানবতা হারানোর ঝুঁকি‍‍` — পোপ লিও চতুর্দশ

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস সফরে গিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পোপ লিও চতুর্দশ। শুক্রবার এলিসি প্রাসাদে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও দেশটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সামনে প্রদত্ত ভাষণে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে যন্ত্রের স্বর্গ আখ্যা দিয়ে সতর্ক করেন যে এর অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার মানবজাতিকে মৌলিক সংকটে ফেলতে পারে। পরবর্তীতে জাতিসংঘের শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর সদর দফতরে কূটনীতিকদের সমাবেশেও তিনি একই আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন।

প্রযুক্তির চরম বিকাশ মানবসত্তার অস্তিত্বকে কঠিন প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

পোপ লিও বলেন, আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে যন্ত্রের আধিপত্য থেকে মানবতাকে রক্ষা করতে হলে নৈতিক বিচারবুদ্ধি গঠনের শিক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি যেন নিছক বাণিজ্যিক মুনাফার উদ্দেশ্যে জিনগত রূপান্তর, গর্ভভাড়া, মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বাণিজ্য কিংবা নিজের মৃত্যুকে স্বেচ্ছায় বেছে নেওয়ার সুযোগ তৈরির দিকে ধাবিত না হয়। ফ্রান্সে সম্প্রতি স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ বা সহায়তাপ্রাপ্ত মৃত্যুকে বৈধতা দিয়ে আইন পাস করার কয়েক মাসের মাথায় তিনি এসব মন্তব্য করলেন। একই সাথে পারমাণবিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে ভ্যাটিকানের দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি তথাকথিত পারমাণবিক প্রতিরোধ নীতিকে ভুল বলে আখ্যায়িত করেন, যা বিশ্বে অস্ত্রের নতুন প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে তুলছে।

দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সমকালের অন্যতম প্রধান সংকট হিসেবে চিহ্নিত করে এটিকে কঠোর নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়ে আসছেন পোপ। তিনি উল্লেখ করেন, আজকের বিশ্বে একটি স্পষ্ট বৈপরীত্য দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে যেখানে গাণিতিক পরিগণনা ব্যবস্থাকে বুদ্ধিমত্তা দিয়ে ভূষিত করা হচ্ছে, অথচ মানুষের অবিচ্ছেদ্য মর্যাদা অস্বীকার করা হচ্ছে। কোনো ব্যক্তিকে কেবল কর্মক্ষমতার মাপকাঠিতে মূল্যায়ন করা এবং উৎপাদনশীলতা কমে গেলে তাকে অপ্রয়োজনীয় ভেবে পরিত্যাগ করার চরম মানসিকতা তৈরি হচ্ছে বলে তিনি সতর্ক করেন।

তবে প্রযুক্তি খাতের সাড়ায় কিছুটা আশাবাদও প্রকাশ করেছেন ভ্যাটিকান প্রধান।

সাংবাদিকদের তিনি জানান, শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং নির্মাতারা এই প্রযুক্তিকে মানুষের ধ্বংসের মাধ্যম না বানিয়ে মানবকল্যাণে ব্যবহারের পথ খুঁজতে আগ্রহী। দীর্ঘ ১৮ বছর পর ফ্রান্সে কোনো পোপের চার দিনব্যাপী এই সরকারি সফরে দেশটির সাংবিধানিক ধর্মনিরপেক্ষতার প্রসঙ্গও উঠে আসে। পোপ বলেন, সত্যিকারের ধর্মনিরপেক্ষতা কখনোই ধর্মবিশ্বাসকে শিক্ষা কিংবা জনপরিসর থেকে সম্পূর্ণ নির্বাসিত করতে পারে না।

শুক্রবার বিকেলে সেন্ট ডেনিসের একটি স্টেডিয়ামে সমবেত তরুণদের সমাবেশে প্রার্থনা পরিচালনা করেন পোপ। ভ্যাটিকানের হিসাব অনুযায়ী, তাকে স্বাগত জানাতে প্যারিসের বিভিন্ন স্থানে প্রায় তিন লাখ মানুষের সমাগম ঘটে।

banner
Link copied!