সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটা তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) মডেলগুলোকে আরও দক্ষ করে তুলতে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন থেকে কোম্পানিটি তাদের কর্মীদের দৈনন্দিন কাজের প্রতিটি পদক্ষেপ, যেমন মাউস ক্লিক এবং কি-বোর্ডের প্রতিটি কি-স্ট্রোক ট্র্যাক ও রেকর্ড করবে। মেটার মালিকানাধীন ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের কর্মীদের গত মঙ্গলবার জানানো হয়েছে যে, একটি নতুন টুল সরাসরি মেটার কম্পিউটার এবং অভ্যন্তরীণ অ্যাপগুলোতে চলবে, যা কর্মীদের কাজের ধরন থেকে ডেটা সংগ্রহ করবে।
বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে মেটার একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, "আমরা যদি এমন কোনো এআই এজেন্ট তৈরি করতে চাই যা মানুষকে দৈনন্দিন কম্পিউটার টাস্ক সম্পন্ন করতে সাহায্য করবে, তবে আমাদের মডেলগুলোর প্রয়োজন বাস্তব উদাহরণ—মানুষ কীভাবে প্রকৃতপক্ষে কম্পিউটার ব্যবহার করে।" মেটা দাবি করছে যে, এই ডেটা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে না এবং সংবেদনশীল তথ্য সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মেটার এই নতুন ট্র্যাকিং টুলের নাম দেওয়া হয়েছে ‘মডেল ক্যাপাবিলিটি ইনিশিয়েটিভ’ বা এমসিআই (MCI)।
তবে এই পদক্ষেপ মেটার ভেতরে এক ধরনের অস্থিরতা ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মেটা কর্মী বিবিসিকে বলেন, "যেখানে কর্মীরা প্রতিনিয়ত নতুন করে ছাঁটাইয়ের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন, সেখানে তাদের প্রতিটি ক্ষুদ্র পদক্ষেপ রেকর্ড করে এআই-কে প্রশিক্ষণ দেওয়াটা অত্যন্ত ‘ডিস্টোপিয়ান’ বা অন্ধকার ভবিষ্যতের ইঙ্গিত বলে মনে হচ্ছে।" উল্লেখ্য, মেটা চলতি বছরের শুরু থেকেই প্রায় ২,০০০ কর্মীকে ছাঁটাই করেছে। নিয়োগের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে এক বিশাল শূন্যতা। গত মার্চে মেটার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সংখ্যা ছিল প্রায় ৮০০টি, যা বর্তমানে মাত্র ৭টিতে নেমে এসেছে।
মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ চলতি ২০২৬ সালকে ‘এআই-এর মাধ্যমে কাজের ধরন বদলে দেওয়ার বছর’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনি এ বছর এআই খাতে প্রায় ১৪০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করার পরিকল্পনা করেছেন, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। জাকারবার্গ মনে করেন, আগে যে কাজগুলো করার জন্য বিশাল দলের প্রয়োজন হতো, এখন তা একজন অত্যন্ত প্রতিভাবান ব্যক্তি এআই-এর সহায়তায় করতে সক্ষম হবেন।
মেটার এই নতুন ট্র্যাকিং টুল থেকে সংগৃহীত ডেটা তাদের নবগঠিত ‘মেটা সুপারইন্টেলিজেন্স ল্যাবস’ (Meta Superintelligence Labs)-এর নতুন মডেলগুলোকে শক্তিশালী করতে ব্যবহৃত হবে। গত মাসেই তারা তাদের প্রথম বড় এআই মডেল ‘মিউজ স্পার্ক’ উন্মোচন করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মীদের প্রতিটি মুভমেন্ট ট্র্যাক করার মাধ্যমে মেটা মূলত মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে একটি স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমে রূপান্তর করার চেষ্টা করছে। তবে এটি কর্মীদের গোপনীয়তা এবং চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে যে বড় প্রশ্ন তুলেছে, তার সুরাহা এখনও হয়নি।
