বিশ্বের জনপ্রিয়তম মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ এবার তাদের ব্যবসায়িক মডেলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষ কিছু সুবিধার বিনিময়ে ‘পেইড সাবস্ক্রিপশন’ বা অর্থের বিনিময়ে সেবা চালু করার ঘোষণা দিয়েছে এর মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। ‘হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস’ নামের এই নতুন সাবস্ক্রিপশন প্ল্যানটি মূলত যারা নিজেদের চ্যাট অভিজ্ঞতাকে আরও ব্যক্তিগত ও আকর্ষণীয় করতে চান, তাদের কথা মাথায় রেখে ডিজাইন করা হয়েছে। মেটা জানিয়েছে, এই সেবাটি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক হবে, অর্থাৎ সাধারণ ব্যবহারকারীরা আগের মতোই বিনামূল্যে অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারবেন।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস সাবস্ক্রিপশনে বেশ কিছু কাস্টমাইজেশন সুবিধা যুক্ত করা হচ্ছে যা সাধারণ সংস্করণে পাওয়া যায় না। এর মধ্যে অন্যতম হলো অ্যাপের কাস্টম আইকন ও থিম পরিবর্তনের সুযোগ। এ ছাড়া ব্যবহারকারীরা প্রতিটি কন্টাক্টের জন্য আলাদা রিংটোন ও নোটিফিকেশন সাউন্ড সেট করতে পারবেন। বর্তমান সংস্করণে চ্যাট লিস্টে সর্বোচ্চ ৩টি চ্যাট পিন করে রাখার সুযোগ থাকলেও সাবস্ক্রিপশন গ্রাহকরা ২০টি পর্যন্ত চ্যাট পিন করে রাখতে পারবেন। চ্যাট লিস্ট আরও গুছিয়ে রাখতে কাস্টম লিস্ট তৈরির সুবিধাও থাকছে এই পেইড মডেলে। তবে কারিগরিভাবে বড় কোনো ফাংশনাল পরিবর্তন বা গোপনীয়তার বাড়তি স্তর এতে যুক্ত করা হয়নি, এটি মূলত ভিজ্যুয়াল বা বাহ্যিক সজ্জার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি এখনও পরীক্ষাধীন পর্যায়ে থাকলেও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর সূত্রমতে, ইউরোপের বাজারে এর মাসিক ফি হতে পারে প্রায় ২.৪৯ ইউরো। এ ছাড়া পাকিস্তানে এটি প্রায় ২২৯ রুপি হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। তবে বাংলাদেশে এর সাবস্ক্রিপশন ফি কত হবে সে বিষয়ে এখনও কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করতে মেটা এক মাসের জন্য ‘ফ্রি ট্রায়াল’ বা বিনামূল্যে পরখ করার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। হোয়াটসঅ্যাপের ইতিহাসে অর্থের বিনিময়ে সেবার বিষয়টি নতুন নয়; একসময় বছরে ১ ডলার ফি নেওয়া হলেও ২০১৬ সালে ফেসবুক (বর্তমানে মেটা) এটি অধিগ্রহণের পর সেই ফি বাতিল করা হয়েছিল।
মেটা দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞাপন ও ব্যবসায়িক মেসেজিং থেকে আয় করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। গত বছর থেকেই হোয়াটসঅ্যাপের স্ট্যাটাসে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের বিষয়টি শুরু হয়েছে। তবে নতুন এই সাবস্ক্রিপশন গ্রহণ করলে ব্যবহারকারীরা বিজ্ঞাপনমুক্ত অভিজ্ঞতা পাবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। মেটা জানিয়েছে, শুরুতে সীমিত সংখ্যক ব্যবহারকারীর ওপর এই প্ল্যানটি পরীক্ষা করা হবে। বর্তমানে ৩০০ কোটির বেশি ব্যবহারকারী থাকা এই প্লাটফর্মে পেইড সার্ভিস চালুর মাধ্যমে কোম্পানিটি তাদের আয়ের উৎস বহুমুখী করতে চায়।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, টেলিগ্রামের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাপগুলো ইতিমধ্যে তাদের প্রিমিয়াম ভার্সন চালু করে সফল হয়েছে। সেই পথেই এখন হাঁটছে হোয়াটসঅ্যাপ। সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য মৌলিক ফিচারগুলো আগের মতোই উন্মুক্ত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। তবে যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের উপস্থিতি একটু ভিন্নভাবে ফুটিয়ে তুলতে পছন্দ করেন, তাদের কাছে এই ‘হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস’ বেশ জনপ্রিয়তা পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মেটা খুব শীঘ্রই বিশ্বজুড়ে এই সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের তারিখ ঘোষণা করবে।
