রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

অক্সফোর্ড বিমানবন্দরের কাছে বায়ুকল স্থাপনে বিমান নিরাপত্তার ঝুঁকির সতর্কতা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ০২:০৫ পিএম

অক্সফোর্ড বিমানবন্দরের কাছে বায়ুকল স্থাপনে বিমান নিরাপত্তার ঝুঁকির সতর্কতা

অক্সফোর্ডশায়ারের বিচেস্টারের কাছে সাবেক রাফ আপার হেফোর্ড সাইটে একটি বিশাল আবাসন প্রকল্পের অংশ হিসেবে বায়ুকল বা উইন্ড টারবাইন স্থাপনের প্রস্তাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে লন্ডন অক্সফোর্ড বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। প্রস্তাবিত এই প্রকল্পে প্রায় ৯ হাজার নতুন ঘরবাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে যা ওই অঞ্চলের আবাসন সংকট মেটাতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

তবে পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত তিনটি বিশাল বায়ুকল বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। লন্ডন অক্সফোর্ড বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি চেরওয়েল ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের কাছে তাদের আপত্তিপত্র জমা দিয়েছে যেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে এই বায়ুকলগুলো বিমানবন্দরের রাডার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করতে পারে।

বিমানবন্দরটি প্রকল্প এলাকা থেকে মাত্র ১৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং এটি আন্তর্জাতিক মানের পেশাদার পাইলট প্রশিক্ষণের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। বিমানবন্দরের মালিকানাধীন সংস্থা অক্সফোর্ড এভিয়েশন সার্ভিসেস জানিয়েছে যে প্রস্তাবিত বায়ুকলগুলো তাদের ইনস্ট্রুমেন্ট ফ্লাইট প্রসিডিউর বা যান্ত্রিক উড্ডয়ন পদ্ধতিতে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। 

বিশেষ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য এই বিমানবন্দরটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হওয়ায় যেকোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি যুক্তরাজ্যের সামগ্রিক বিমান চলাচল খাতের ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলতে পারে। তবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এটিও স্পষ্ট করেছে যে তারা সামগ্রিকভাবে আবাসন প্রকল্পের বিরোধী নয় বরং শুধুমাত্র বায়ুকল স্থাপনের পরিকল্পনাটি নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে।

লন্ডন অক্সফোর্ড বিমানবন্দরের পাশাপাশি ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বা এমওডি-ও এই পরিকল্পনার বিষয়ে নেতিবাচক অবস্থান নিয়েছে। এমওডি-র মতে এই বায়ুকলগুলো রাফ ওয়েস্টন-অন-দ্য-গ্রিন বিমান ঘাঁটির অত্যন্ত কাছে হওয়ায় আকাশপথে চলাচলের ক্ষেত্রে বড় ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে। 

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মনে করছে এটি বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি অগ্রহণযোগ্য অবনতি ঘটাবে যা ভবিষ্যতে বড় কোনো দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। উল্লেখ্য যে প্রস্তাবিত আবাসন এলাকাটি একসময় সরকারিভাবে ‘নিউ টাউন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল তবে গত মার্চ মাসে সেই তালিকা থেকে এটি বাদ দেওয়া হয়।

উন্নয়নকারী সংস্থা ডরচেস্টার লিভিং অবশ্য বিমানবন্দরের এই উদ্বেগকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছে। তারা বর্তমানে রাডার এবং উড্ডয়ন পদ্ধতির ওপর বায়ুকলের প্রভাব নিয়ে অতিরিক্ত কারিগরি কাজ শুরু করেছে যাতে বিমানবন্দরের উত্থাপিত সমস্যাগুলোর একটি কার্যকর সমাধান বের করা যায়। ডরচেস্টার লিভিংয়ের লক্ষ্য হলো এই আবাসন এলাকাটিকে একটি ‘নেট কার্বন পজিটিভ’ জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা। 

এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য তারা উইন্ড টারবাইন বা বায়ুকলের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তির ওপর জোর দিচ্ছে। তবে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি এবং বিমান নিরাপত্তার এই দ্বন্দ্বে এখন স্থানীয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

অক্সফোর্ডশায়ারের এই বিতর্কটি মূলত আধুনিক উন্নয়ন এবং ঐতিহ্যের মধ্যে একটি ভারসাম্য রক্ষার লড়াই হিসেবে সামনে এসেছে। একদিকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্বন নিঃসরণ কমানোর তাগিদ অন্যদিকে আকাশপথের নিরাপত্তা বজায় রাখা—এই দুইয়ের মাঝে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। 

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনে করছে যদি রাডার হস্তক্ষেপের বিষয়টি বৈজ্ঞানিকভাবে সমাধান না করা যায় তবে হয়তো বায়ুকলের বিকল্প কোনো জ্বালানি উৎসের কথা ভাবতে হতে পারে। বর্তমানে বিষয়টি পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারাও প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

banner
Link copied!