রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

এআই খাতে বিপুল ব্যয়ে বিনিয়োগকারীদের আতঙ্ক, মেটার শেয়ারে বড় ধস

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ০১:১৫ পিএম

এআই খাতে বিপুল ব্যয়ে বিনিয়োগকারীদের আতঙ্ক, মেটার শেয়ারে বড় ধস

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিশাল বিনিয়োগের পরিকল্পনা বিশ্ববাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে যার ফলে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা প্ল্যাটফর্মসের শেয়ারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী বর্ধিত লেনদেনে মেটার শেয়ারের দাম প্রায় ৭ শতাংশ কমে গেছে। মূলত ২০২৬ সালের জন্য প্রতিষ্ঠানের মূলধনী ব্যয় বা ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার ব্যাপকভাবে বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পরই বিনিয়োগকারীরা এই বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখান। 

মেটা জানিয়েছে যে তারা এআই প্রকল্পে প্রাথমিকভাবে যা ভেবেছিল তার চেয়ে আরও কয়েক বিলিয়ন ডলার বেশি খরচ করতে যাচ্ছে।চলতি সপ্তাহের একই সময়ে মেটা ছাড়াও গুগল-মালিকানাধীন অ্যালফাবেট, মাইক্রোসফট এবং আমাজন তাদের ত্রৈমাসিক আয়ের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তবে অন্য তিন প্রতিষ্ঠান তাদের এআই বিনিয়োগ থেকে মুনাফার মুখ দেখতে শুরু করলেও মেটা এখনো আস্থার সংকটে ভুগছে। 

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে চলতি বছর বিশ্বজুড়ে এই চারটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে অন্তত ৬৫০ বিলিয়ন ডলার খরচ করার পরিকল্পনা করেছে। ফরেস্টারের বাজার বিশ্লেষক লি সাস্টার জানিয়েছেন যে এআই খাতের এই বিপুল ব্যয়ের স্থায়িত্ব নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ রয়েছে কারণ এই বিনিয়োগ থেকে প্রত্যাশিত মুনাফা এখনো দৃশ্যমান নয়।

মেটার প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা বা সিএফও সুসান লি জানিয়েছেন যে প্রতিষ্ঠানটি আগে তাদের কম্পিউটিং ক্ষমতার প্রয়োজনকে অবমূল্যায়ন করেছিল। এখন সেই চাহিদা মেটাতে মেটা তাদের ২০২৬ সালের ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ১৩৫ বিলিয়ন থেকে বাড়িয়ে ১৪৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

বিশেষ করে মেমোরি চিপের বাড়তি দাম এবং নতুন ডেটা সেন্টার তৈরির খরচের কারণে মেটার ওপর এই বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। যদিও প্রথম প্রান্তিকে মেটার আয় ৫৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং মুনাফা হয়েছে ২৬ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার তবে এর বড় অংশই এসেছে ৮ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ কর ছাড় থেকে।

এদিকে মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গ এআই খাতে প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি তুলে ধরতে ‘মিউস’ (Muse) নামক নতুন এআই মডেলের ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে ‘মিউস স্পার্ক’ (Muse Spark) হলো তাদের সুপারইন্টেলিজেন্স ল্যাবের প্রথম প্রধান উন্মোচন। তবে বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে যখন জানতে চাওয়া হয় যে এই বিশাল খরচ ঠিক কীভাবে মুনাফায় রূপান্তরিত হবে তখন জাকারবার্গ স্পষ্ট কোনো রোডম্যাপ দিতে পারেননি। 

তিনি কেবল বলেন যে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে একটি সঠিক পথে রয়েছে এবং তাদের ল্যাবটি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এআই গবেষণা কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। জাকারবার্গের এই অস্পষ্ট বক্তব্য বাজার বিশ্লেষকদের আরও বেশি সতর্ক করে তুলেছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক খবরটি এসেছে মেটার কর্মীবাহিনীর ওপর এআই-এর প্রভাব নিয়ে। জাকারবার্গ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের ফলে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্ষমতা এতই বেড়েছে যে আগে কয়েক ডজন কর্মীর কয়েক মাস সময় লাগত এমন কাজ এখন মাত্র এক বা দুইজন এক সপ্তাহেই শেষ করতে পারছেন। 

এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে মেটা মে মাসে তাদের প্রায় ১০ শতাংশ কর্মী বা প্রায় ৮ হাজার জনবল ছাঁটাই করার পরিকল্পনা করছে। রয়টার্স ও বিবিসির তথ্যমতে মেটা তাদের বর্তমান ৭৭ হাজার ৯০০ কর্মীবাহিনীকে আরও ছোট করে আনতে চায় যাতে এআই অবকাঠামোর খরচ মেটানো সম্ভব হয়।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন যে আলফাবেট বা গুগলের শেয়ারে যেখানে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে মেটা সেখানে পিছিয়ে পড়ার মূল কারণ হলো উপযোগিতা। গুগল তাদের ক্লাউড সার্ভিসের মাধ্যমে এআই-এর সুফল সরাসরি দেখাতে পারছে যা মেটা এখনো পারেনি। 

আগামী কয়েক মাস মেটার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে কারণ বিনিয়োগকারীরা এখন কেবল খরচ নয় বরং জাকারবার্গের এই এআই উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে সরাসরি আর্থিক সাফল্যের প্রমাণ চান। অন্যথায় প্রযুক্তি বাজারে মেটার এই অস্থিরতা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

banner
Link copied!