যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় জাতীয় উদ্যান লেক ডিস্ট্রিক্টের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার নানাবিধ অনন্য উপায় রয়েছে। কেউ সেখানে প্রকৃতির একদম কাছাকাছি গিয়ে খোলা আকাশের নিচে তাঁবু গেড়ে সাধারণ জীবন কাটাতে ভালোবাসেন, আবার কেউ খোঁজেন শত বছরের পুরনো প্রাসাদের রাজকীয় আভিজাত্য। এই দুই চরম বিপরীতধর্মী আবাসন ব্যবস্থার বাস্তব রূপ কেমন এবং প্রকৃত পক্ষে বর্তমান সময়ে লেক ডিস্ট্রিক্ট ভ্রমণ খরচ কেমন হতে পারে, তা ফুটিয়ে তুলেছেন বিখ্যাত ভ্রমণ লেখক সারাহ ব্যাক্সটার।
তিনি উদ্যানটিতে এক রাত কাটিয়েছেন সাধারণ একটি অফ-গ্রিড ক্যাম্পসাইটে এবং অন্য রাত কাটিয়েছেন বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেলে।
প্রথম রাতের জন্য সারাহ বেছে নিয়েছিলেন উইনস্টার ভ্যালির দক্ষিণ পাহাড়ে অবস্থিত ‘মস হাও ফার্ম’ নামের একটি অফ-গ্রিড বাজেট ক্যাম্পসাইট। এক টুকরো সবুজ ঘাসের ওপর তাঁবু খাটিয়ে রাত কাটানোর এই সাধারণ অভিজ্ঞতার জন্য তার পকেট থেকে খরচ হয়েছে মাত্র ১৭ পাউন্ড ৫০ পেনি। ক্যাম্পসাইটের মালিক জন ম্যাডি জানান, তারা এখানে কোনো কৃত্রিম চাকচিক্য নয়, বরং শহুরে জীবনের বাইরে প্রকৃতির সাথে মানুষের সংযোগ স্থাপনের সময় বিক্রি করেন। একটি পুরনো গোয়ালঘরকে রূপান্তরিত করে বানানো ট্যাপ-রুমে স্থানীয় ফেল ব্রুয়ারির বিয়ার খাওয়া কিংবা খোলা আকাশের নিচে প্যাকেট কারি দিয়ে রাতের খাবার সারার অভিজ্ঞতা ছিল বেশ রোমাঞ্চকর। কিন্তু ভোরের দিকে পাহাড়ি অঞ্চলের তাপমাত্রা প্রচণ্ড কমে যাওয়ায় পুরো তাঁবু বরফে ঢেকে যায় এবং এক কনকনে ঠান্ডা রাত কাটাতে হয় তাকে।
ঠিক পরের দিনই সারাহ তার থাকার জায়গা পরিবর্তন করেন লেক উইন্ডারমেয়ারের তীরে অবস্থিত ১৮৯০ সালে নির্মিত ঐতিহাসিক হোটেল ‘ল্যাংডেল চেজ’-এ। এখানে থাকার খরচ প্রতি রাতে ন্যূনতম ৩৫০ পাউন্ড থেকে শুরু হয়, যা আক্ষরিক অর্থেই এক বিশাল লেক ডিস্ট্রিক্ট ভ্রমণ খরচ। তিনি সেখানে ‘পুলউড সুইট’-এ অবস্থান করেন, যেখানে ছিল চমৎকার স্টেইনড-গ্লাসের ছাদ, হাই-টেক বাথরুম এবং ল্যাংডেল পাইকস ও কোনিস্টন ফেলসের অসাধারণ দৃশ্য দেখার জন্য নিজস্ব ট্যারেট বা চূড়া। হোটেলের নিজস্ব ১৯২০ সালের মোটর বোটে চড়ার পাশাপাশি তিনি উইন্ডারমেয়ারের পানিতে কায়াকিং উপভোগ করেন এবং একপর্যায়ে প্রতিকূল বাতাসের তোড়ে মাঝ-লেকে আটকে গেলে বোটম্যান রব এসে তাকে স্পীডবোটে উদ্ধার করেন। রাতে হোটেলের রেস্তোরাঁয় পরিবেশন করা লেমন সোল মাছ এবং পিনো গ্রিস ওয়াইনের তিন কোর্সের চমৎকার ডিনার ছিল তার পুরো ভ্রমণের অন্যতম সেরা অংশ।
এই দুই সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতা শেষে সারাহ জানান, লেক ডিস্ট্রিক্টের আসল রূপ কোনো একটি নির্দিষ্ট বাজেটের ফ্রেমে সীমাবদ্ধ নয়। কেউ প্রকৃতির একদম কাছাকাছি গিয়ে তাঁবুতে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করেন, আবার কেউ হোটেলের উষ্ণ আভিজাত্যে মানসিক শান্তি খোঁজেন। নিজের ব্যক্তিগত পছন্দ এবং অর্থনৈতিক সামর্থ্য অনুযায়ী সঠিক স্থানটি বেছে নিতে পারাই এই ভ্রমণের মূল সার্থকতা।
