রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

জাপানে যৌথ অভিভাবকত্ব আইন কার্যকর: ডিভোর্সপ্রাপ্তদের স্বস্তি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : এপ্রিল ১, ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম

জাপানে যৌথ অভিভাবকত্ব আইন কার্যকর: ডিভোর্সপ্রাপ্তদের স্বস্তি

জাপানে বুধবার ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ডিভোর্সপ্রাপ্ত দম্পতিদের জন্য সন্তানের যৌথ অভিভাবকত্ব বা জয়েন্ট কাস্টডি আইন আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে বলে কিয়োদো নিউজ এবং বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

দেশটির সিভিল কোডে এই যুগান্তকারী পরিবর্তনের ফলে এখন থেকে বিবাহবিচ্ছেদের পর বাবা ও মা উভয়ই সন্তানের আইনি অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। দীর্ঘ সময় ধরে জাপান ছিল জি-সেভেন ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র রাষ্ট্র যেখানে ডিভোর্সের পর কেবল একজনকে সন্তানের অভিভাবকত্ব দেওয়া হতো। 

আগের নিয়ম অনুযায়ী বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মা সন্তানের কাস্টডি পেতেন এবং তিনি চাইলে বাবার সঙ্গে সন্তানের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারতেন। জাপানের এই একক অভিভাবকত্ব ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দীর্ঘদিনের সমালোচনা ছিল যা এই নতুন সংস্কারের মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে।

জাপানি সংবাদমাধ্যম কিয়োদো নিউজের তথ্য অনুযায়ী নতুন এই আইনের আওতায় ফ্যামিলি কোর্ট এখন থেকে সিদ্ধান্ত নেবে যে কোনো নির্দিষ্ট দম্পতির ক্ষেত্রে যৌথ না কি একক অভিভাবকত্ব প্রযোজ্য হবে। এমনকি যারা পুরনো আইনের অধীনে ডিভোর্স নিয়েছেন তারাও এখন ফ্যামিলি কোর্টে আবেদন করে তাদের অভিভাবকত্বের শর্তগুলো পুনর্বিবেচনা করার সুযোগ পাবেন।

এছাড়া সিভিল কোডের এই সংশোধনীতে সন্তানদের জন্য মাসিক শিশু সহায়তা বা চাইল্ড সাপোর্ট প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নতুন ব্যবস্থার অধীনে সন্তানের সঙ্গে বসবাসকারী অভিভাবক এখন থেকে কোনো পূর্ব চুক্তি ছাড়াই প্রতি মাসে অন্তত ২০ হাজার ইয়েন দাবি করতে পারবেন। কোনো পক্ষ এই অর্থ দিতে ব্যর্থ হলে আদালতের মাধ্যমে তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার কঠোর বিধানও রাখা হয়েছে।

জাপান টাইমসের একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে এই আইনি পরিবর্তন জাপানে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা প্যারেন্টাল অ্যাবডাকশন বা সন্তান অপহরণের মতো বিতর্কিত ঘটনাগুলো কমাতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে ২০২১ সালে টোকিও অলিম্পিকের সময় একজন ফরাসি বাবা তার সন্তানদের ফিরে পেতে আমরণ অনশন করেছিলেন যা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।

একইভাবে ২০২৩ সালে জাপানি টেবিল টেনিস তারকা আই ফুকুহারার বিরুদ্ধেও তার তাইওয়ানিজ সাবেক স্বামী একই ধরণের অভিযোগ এনেছিলেন। তবে এই নতুন আইনের সমালোচকরা কিছুটা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে পারিবারিক সহিংসতা বা নির্যাতনের শিকার নারীরা এই আইনের ফলে সাবেক স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বাধ্য হতে পারেন যা তাদের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে আদালত নিশ্চিত করেছে যে যেখানে নির্যাতনের ঝুঁকি থাকবে সেখানে একক অভিভাবকত্বই বহাল রাখা হবে।

banner
Link copied!