হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া একটি বিদেশি কার্গো জাহাজ নিয়ে তৈরি হওয়া রহস্য উন্মোচন করেছে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক ট্র্যাকিং সংস্থা ট্যাঙ্কার ট্র্যাকার্স ডট কম। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি ছিল যে জাহাজটি একটি ভিন্ন পথ ব্যবহার করার সময় ভুলবশত আটকে গেছে। তবে পর্যবেক্ষক সংস্থার তথ্যমতে জাহাজটি প্রকৃতপক্ষে গত মার্চ মাস থেকেই হরমুজ প্রণালীর একই স্থানে আটকা পড়ে আছে। এই জাহাজটি ইরানের তেল ব্যবসায়ী মোহাম্মাদ হোসেন শমখানির মালিকানাধীন একটি নেটওয়ার্কের অংশ। এই ঘটনাটি বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি ও সমুদ্র বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মোহাম্মাদ হোসেন শমখানিকে পশ্চিমা দেশগুলো ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ছায়া নৌবহর বা শ্যাডো ফ্লিট পরিচালনার অন্যতম প্রধান ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা এই ব্যবসায়ী ও তার নেটওয়ার্ক ইরান এবং রাশিয়ার বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল বিশ্ববাজারে পাচারের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। মার্কিন প্রশাসন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন তার বিরুদ্ধে একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। শমখানির পরিবার ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। তার পিতা আলী শমখানি ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের দীর্ঘকালীন সচিব ছিলেন এবং যুদ্ধের শুরুতে একটি বিমান হামলায় তিনি নিহত হন।
পর্যবেক্ষক সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জাহাজটির নাম অ্যারিস্টা। এটি কোমোরোস পতাকাবাহী একটি কন্টেইনারবাহী জাহাজ। বিশ্লেষকদের মতে, নিষেধাজ্ঞার আওতা এড়াতে প্রায়শই ইরান এই ধরনের ছদ্মবেশ ও ভুয়া পতাকার ব্যবহার করে থাকে। ইরানের গণমাধ্যমগুলো দাবি করেছিল যে মার্কিন পরামর্শ অনুযায়ী পথ পরিবর্তনের ফলে জাহাজটি আটকে পড়েছে। তবে এই দাবির কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে এপি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। জাহাজটি যে স্থানে আটকা পড়েছে তা ইরানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্যেই অবস্থিত।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর। এই পথ দিয়ে বিশ্ববাজারে তেলের একটি বড় অংশ সরবরাহ করা হয়। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ইরান এই প্রণালী নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান সংহত করার চেষ্টা করছে। জাহাজ আটকে পড়ার এই ঘটনাটি ইরানের গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে যেন তারা বিশ্বকে বোঝাতে পারে যে তাদের অনুমোদিত পথ ছাড়া অন্য পথে চলাচলের ঝুঁকি কতটা বেশি। তবে নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকদের মতে এটি কোনো দুর্ঘটনা নয় বরং অনেক আগে থেকেই অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকা একটি জাহাজ। শমখানি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে পরিচালিত এই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যকার বর্তমান উত্তেজনাকর সম্পর্কেরই একটি প্রতিচ্ছবি। বিশ্ব অর্থনীতির ওপর এই অঞ্চলের প্রভাব অসামান্য হওয়ায় প্রতিটি নৌযান চলাচল ও দুর্ঘটনা এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গভীর পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
