শুক্রবার, ০৩ জুলাই, ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩

মোনাকোতে বোমা হামলা: ইউক্রেনীয় নারী সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ৩, ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম

মোনাকোতে বোমা হামলা: ইউক্রেনীয় নারী সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত

ইউরোপের অত্যন্ত সুরক্ষিত ও ধনী রাষ্ট্র মোনাকোতে গত সোমবার রাতে সংঘটিত ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনায় ইন্টারপোল এক ইউক্রেনীয় নারীকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। আন্তর্জাতিক এই পুলিশ সংস্থা শুক্রবার তাদের ওয়েবসাইটে আনাস্তাসিয়া বেরেজোভস্কা নামের ৩৯ বছর বয়সী এক নারীর বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছে। তার বিরুদ্ধে হত্যার চেষ্টা, জনসমাগমস্থলে বিস্ফোরক স্থাপন এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার রাত প্রায় ৯টার দিকে মোনাকোর একটি আবাসিক ভবনের প্রবেশপথে। সেখানে একটি প্যাকেজ বোমা বিস্ফোরিত হয়। এতে ভাদিম ইয়েরমোলায়েভ নামের এক ইউক্রেনীয় শিল্পপতিসহ তিনজন আহত হন। আহতদের মধ্যে একজন নারী এবং ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরও রয়েছে। ভাদিম ইয়েরমোলায়েভ একসময় ইউক্রেনের নাগরিক ছিলেন তবে বর্তমানে তিনি সাইপ্রাসের পাসপোর্টধারী। ইউক্রেনে রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখার অভিযোগে ২০২৩ সালে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন ওই নারী ঘটনার কয়েক দিন আগে থেকেই ওই এলাকাটিতে রেকি করেছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে কালো রঙের বাকেট হ্যাট পরিহিত অবস্থায় দেখা গেছে। শুরুতে পুলিশ তাকে পুরুষ বলে ধারণা করেছিল, কারণ তার পোশাক এবং চলন অনেকটা পুরুষের মতো ছিল। তবে পরবর্তীকালে ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন যে, তিনি একজন নারী যিনি নিজেকে পুরুষের ছদ্মবেশে লুকিয়ে রেখেছিলেন।

মোনাকোর ডেপুটি পাবলিক প্রসিকিউটর মর্গান রেমন্ড এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, বিস্ফোরকটি দূর থেকে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে সক্রিয় করা হয়েছিল। তদন্তের স্বার্থে দুই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হলেও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে পুলিশ সন্দেহভাজনের ব্যবহৃত জার্মান লাইসেন্স প্লেটযুক্ত একটি ভাড়া গাড়ির সূত্র ধরে এগোচ্ছে। তদন্তে জানা গেছে, হামলাকারী হামলার পরপরই ফ্রান্স ও ইতালি হয়ে তার বসবাসের দেশ জার্মানিতে পালিয়েছেন।

জার্মান পুলিশ জানিয়েছে, তারা সন্দেহভাজন ওই নারীর জার্মানিতে অবস্থিত ভাড়া করা অ্যাপার্টমেন্টে তল্লাশি চালিয়েছে এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করেছে। মোনাকো কর্তৃপক্ষ এবং জার্মান নিরাপত্তা বাহিনী বর্তমানে এই তদন্তে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। ভাদিম ইয়েরমোলায়েভকে টার্গেট করেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মোনাকোর প্রিন্স দ্বিতীয় আলবার্ট এই ঘটনাকে একটি জঘন্য অপরাধ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন।

হামলার শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাদের নিস শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ১৩ বছর বয়সী কিশোরের আঘাত তুলনামূলক কম গুরুতর। হামলাকারীর নিখুঁত পরিকল্পনা এবং বিস্ফোরক ব্যবহারের পদ্ধতি দেখে তদন্তকারীরা মনে করছেন, তিনি একা এই কাজ করেননি। তার পেছনে অন্য কোনো চক্র বা সহযোগীর উপস্থিতি থাকার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইউরোপীয় পুলিশের তথ্যমতে, রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

তদন্তের পরবর্তী ধাপে এখন মূল মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে হামলাকারীর পালানোর পথ এবং তার সম্ভাব্য সহযোগীদের শনাক্ত করার দিকে। মোনাকোর মতো অতি সুরক্ষিত রাষ্ট্রে এমন হামলার ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। পুলিশ আপাতত কোনো নির্দিষ্ট উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার কথা নিশ্চিত করেনি। তবে তারা সব ধরনের সম্ভাবনা খোলা রেখে তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছে। ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির পর এখন আন্তর্জাতিকভাবে তাকে ধরার তৎপরতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

banner
Link copied!