রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

দুর্নীতি ও যুদ্ধের ক্ষত কাটিয়ে ওঠার বার্তা দিলেন পোপ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম

দুর্নীতি ও যুদ্ধের ক্ষত কাটিয়ে ওঠার বার্তা দিলেন পোপ

কিলাম্বায় পোপের গণপ্রার্থনা Ai ছবি

পোপ লিও ১৪শ রবিবার অ্যাঙ্গোলার রাজধানী লুয়ান্ডার উপকণ্ঠে কিলাম্বা শহরে এক বিশাল জনসমাবেশে বক্তব্য প্রদান করেছেন। আল জাজিরা ও রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দশ হাজারেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মানুষের উপস্থিতিতে তিনি দেশটির গৃহযুদ্ধ-বিধ্বস্ত অতীতকে পেছনে ফেলে বিভেদ ও দুর্নীতি কাটিয়ে ওঠার আহ্বান জানান। 

১৯ এপ্রিল আয়োজিত এই গণপ্রার্থনায় পোপ বলেন যে শত্রুতা এবং সম্পদের অপচয় দারিদ্র্য ডেকে এনেছে, তাই এখন সময় এসেছে ভবিষ্যতের দিকে আশার আলো নিয়ে তাকানোর।

চারটি দেশ নিয়ে গঠিত তাঁর আফ্রিকা সফরের তৃতীয় ধাপে গত শনিবার এই পর্তুগিজ ভাষাভাষী দেশটিতে পৌঁছান তিনি। আলজেরিয়া এবং ক্যামেরুন সফর শেষ করে তিনি এখন অ্যাঙ্গোলায় অবস্থান করছেন এবং এরপর তাঁর গিনি সফর করার কথা রয়েছে। 

সফরের শুরুতে অ্যাঙ্গোলার প্রেসিডেন্ট জোয়াও লুরেনকোসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে পোপ প্রাকৃতিক সম্পদের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট পরিবেশগত ও সামাজিক বিপর্যয় নিয়ে কথা বলেন। তাঁর ১১ দিনের এই সফরের মূল লক্ষ্যই ছিল আফ্রিকার সম্পদ লুণ্ঠন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে পোপ লিওর সাম্প্রতিক মতবিরোধ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনার সৃষ্টি করেছে। মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সমালোচনা করায় ট্রাম্প তাকে পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে দুর্বল বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের সেই সমালোচনার জবাব দিয়ে পোপ আগেও বলেছেন যে তিনি যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলতে ভীত নন। 

তবে ক্যামেরুন থেকে অ্যাঙ্গোলা যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের তিনি জানান যে ট্রাম্পের সাথে কোনো নতুন তর্কে জড়ানোর ইচ্ছা তাঁর নেই। মূলত ইরান ইস্যুতে পোপের জোরালো অবস্থান ও মার্কিন নীতির বিরোধিতা ভ্যাটিকান ও হোয়াইট হাউসের মধ্যে এক ধরনের স্নায়ুযুদ্ধের জন্ম দিয়েছে।

অ্যাঙ্গোলার গৃহযুদ্ধ ২০০২ সালে শেষ হলেও এর রেশ এখনও মানুষের মনে রয়ে গেছে। পোপের ভাষণে সেই গভীর ক্ষতের কথা উঠে এসেছে এবং তিনি নাগরিকদের ভয় না পেয়ে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে উৎসাহিত করেছেন। 

২০২৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী আফ্রিকায় ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বীদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা বিবেচনায় পোপের এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। উম্মাহ কণ্ঠের এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে পোপ কেবল ধর্মের কথাই বলছেন না, বরং বৈশ্বিক সম্পদ বণ্টন এবং যুদ্ধ বিরোধী অবস্থানের মাধ্যমে এক শক্তিশালী রাজনৈতিক ও নৈতিক বার্তাও প্রদান করছেন।

banner
Link copied!