২০২৬ সালের ৬ এপ্রিল আর্টেমিস ২ মিশনের নভোচারীরা ওরিয়ন মহাকাশযান থেকে চাঁদের দিগন্তে পৃথিবীর অস্ত যাওয়ার একটি অসাধারণ ছবি তুলেছেন যা `আর্থসেট` নামে পরিচিতি পেয়েছে বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এই ছবিটিকে ১৯৬৮ সালের ঐতিহাসিক `আর্থরাইজ` ছবির সঙ্গে তুলনা করছে।
৫৮ বছর আগে অ্যাপোলো ৮ মিশনের সময় ফ্র্যাঙ্ক বোরম্যান যখন প্রথমবার চাঁদের ওপার থেকে পৃথিবীকে উদিত হতে দেখেছিলেন তখন সেই ছবি বিশ্বজুড়ে পরিবেশ আন্দোলনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। বর্তমানের এই নতুন ছবিটিতে ওরিয়ন মহাকাশযানের জানালা দিয়ে ওশেনিয়া অঞ্চলের ওপর সাদা মেঘ ও নীল জলরাশির স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যাপোলো ৮-এর কমান্ডার ফ্র্যাঙ্ক বোরম্যান বলেছিলেন যে চাঁদের পৃষ্ঠ ছিল সম্পূর্ণ বর্ণহীন এবং উল্কাপাতের ক্ষতবিক্ষত একটি নির্জন মরুভূমি। সেই ধূসর প্রেক্ষাপটে পৃথিবীই ছিল মহাবিশ্বের একমাত্র রঙিন বস্তু। তবে ২০২৬ সালের এই নতুন ছবিতে দৃশ্যমান পরিবর্তনগুলো বিজ্ঞানীদের চিন্তিত করে তুলেছে।
ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার বিশেষজ্ঞ ক্রেইগ ডনলন জানান যে গত ছয় দশকে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীর উপরিভাগে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। ১৯৬৮ সালে যেখানে আধুনিক স্যাটেলাইট প্রযুক্তি সীমিত ছিল সেখানে আজ হাজার হাজার স্যাটেলাইট পৃথিবীকে পর্যবেক্ষণ করছে। তাসত্ত্বেও মানুষের চোখে দেখা এবং হাতে তোলা ছবির আবেদন মহাকাশ গবেষণায় এখনও অনন্য বলে বিবেচিত হয়।
আর্টেমিস ২ মিশনের এই ছবিটি এডাব্লিউটি সময় ১৮:৪১ মিনিটে তোলা হয়েছিল যখন নভোচারীরা চাঁদের পাশ দিয়ে সাত ঘণ্টার একটি ফ্লাই-বাই সম্পন্ন করছিলেন। নাসা জানিয়েছে যে এবার কোনো একক নভোচারীর নামে ছবির কৃতিত্ব দেওয়া হয়নি বরং পুরো ক্রু সদস্যের সম্মিলিত অর্জন হিসেবে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
অ্যাপোলো ৮-এর সেই ছবি যেমন ১৯৭০ সালে প্রথম ধরিত্রী দিবস পালনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল আর্টেমিস মিশনের এই নতুন দৃশ্যটিও বর্তমান প্রজন্মের কাছে আমাদের গ্রহের ভঙ্গুরতা এবং সুরক্ষার বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। মহাকাশের বিশাল আঁধারে ভেসে থাকা আমাদের এই একমাত্র আবাসের পরিবর্তনগুলো এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি স্পষ্ট এবং বিশ্লেষণযোগ্য হয়ে উঠেছে।
