রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

গাজায় ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি সম্প্রসারণের প্রমাণ মিলল স্যাটেলাইট চিত্রে

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম

গাজায় ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি সম্প্রসারণের প্রমাণ মিলল স্যাটেলাইট চিত্রে

গাজায় ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা ‍ Ai ছবি

আল জাজিরার ডিজিটাল ইনভেস্টিগেশন ইউনিটের সর্বশেষ স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে যে গাজায় মার্কিন সমর্থিত পুনর্গঠন পরিকল্পনা থমকে গেলেও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী পুরো উপত্যকা জুড়ে তাদের স্থায়ী ঘাঁটি ও ফোর্টিফিকেশন বা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুতগতিতে সম্প্রসারণ করছে। 

প্ল্যানেট ল্যাবস এবং সেন্টিনেল হাব থেকে প্রাপ্ত গত ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ মার্চ পর্যন্ত সময়ের ছবিগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে দক্ষিণ গাজার রাফাহ শহরে প্রস্তাবিত পুনর্গঠন সাইটে কোনো নতুন নির্মাণ বা ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু হয়নি। অথচ একই সময়ে গাজার বিভিন্ন কৌশলগত পয়েন্টে ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতির ব্যাপক শক্তিবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।

বিবিসি ও রয়টার্স সহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এর আগে গাজার মানবিক সংকট নিয়ে রিপোর্ট করলেও এই নতুন স্যাটেলাইট বিশ্লেষণটি ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদী সামরিক পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেয়। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মার্চের চিত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে উত্তর গাজার বেইত হ্যানুন এবং দক্ষিণে রাফাহ এলাকায় ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ কার্যত বন্ধ রয়েছে। 

বিপরীতে গাজা সিটির শুজাইয়া এলাকার আল-মুনতার পাহাড় এবং খান ইউনিসের বিভিন্ন অংশে ইসরায়েলি বাহিনীর স্থায়ী আউটপোস্ট ও রাস্তা নির্মাণের তৎপরতা বেড়েছে। জহুর আদ-দিকে নতুন নির্মিত রাস্তাগুলো ইতিমধ্যে বিদ্যমান সামরিক সাইটগুলোর সাথে যুক্ত হয়েছে যা স্থায়ী সামরিক উপস্থিতির স্পষ্ট প্রমাণ দেয় বলে আল জাজিরা তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।

এই অনুসন্ধানের ফলাফলগুলো গত বছরের শেষদিকে ফরেনসিক আর্কিটেকচারের একটি প্রতিবেদনের সাথেও মিলে যায় যেখানে গাজায় ৪৮টি ইসরায়েলি সামরিক সাইট শনাক্ত করা হয়েছিল। এর মধ্যে অন্তত ১৩টি সাইট নির্মিত হয়েছিল তথাকথিত যুদ্ধবিরতির পরবর্তী সময়ে। 

এই স্থাপনাগুলো এখন স্থায়ী ঘাঁটিতে রূপান্তরিত হয়েছে যেখানে পাকা রাস্তা, ওয়াচ টাওয়ার এবং ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ সামরিক নেটওয়ার্কের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে।

এদিকে ড্যাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে জ্যারেড কুশনারের উপস্থাপন করা ‍‍`নিউ রাফাহ‍‍` বা নতুন গাজার যে বিলাসবহুল স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল তা এখন ফিকে হতে শুরু করেছে। ট্রাম্পের জামাতা সেখানে গাজা উপকূলে বিলাসবহুল রিসোর্ট ও ১০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিলের কথা বলেছিলেন। 

তবে জেনেভা ভিত্তিক ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটর সতর্ক করে জানিয়েছে যে এই পরিকল্পনা আসলে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার একটি কৌশল মাত্র। সংস্থাটির মতে এই পরিকল্পনা গাজাকে ছোট ছোট ব্লকে ভাগ করে ফেলবে যেখানে ফিলিস্তিনিরা কঠোর সামরিক নজরদারির মধ্যে কনটেইনার বা ক্যারাভানে বসবাস করতে বাধ্য হবে। স্যাটেলাইট ইমেজের বর্তমান বাস্তবতা কুশনারের সেই ‍‍`মিডল ইস্ট রিভেরা‍‍`র বিপরীতে এক অন্ধকার সামরিক ঘ্যাটোর চিত্রই ফুটিয়ে তুলছে।

banner
Link copied!