মার্কিন নৌবাহিনী পারস্য উপসাগরে ইরান-পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজ জব্দ করার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম একলাফে ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার ঘোষণা করেছেন যে, ওমান উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি ডেস্ট্রয়ার `তুসকা` (TOUSKA) নামক একটি ইরানি কন্টেইনার জাহাজকে সতর্কবার্তা দেওয়ার পর সেটির ইঞ্জিন রুমে গুলি চালিয়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরপরই সোমবার সকালে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৫.২৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআই-এর দাম ৫.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮৮.৭৯ ডলারে পৌঁছেছে।
এই ঘটনার আগে গত শনিবার ইরান সরকার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয়। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত এই পথে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না। উল্লেখ্য, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
এর আগে শুক্রবার একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার আভাস পাওয়া গিয়েছিল, যার ফলে তেলের দাম ৯ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে গিয়েছিল। তবে পরিস্থিতির আকস্মিক পরিবর্তনে বাজার বিশ্লেষকরা এখন দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা করছেন।
এদিকে সংকট নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতাও শুরু হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পৌঁছাবে যার নেতৃত্বে থাকবেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
এই প্রতিনিধি দলে জ্যারেড কুশনারও রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, তেহরান আপাতত এই আলোচনায় অংশ নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা করছে না। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটন তাদের `সর্বোচ্চ চাপ` প্রয়োগের নীতি পরিহার না করা পর্যন্ত তারা কোনো সরাসরি সংলাপে বসবে না।
এই যুদ্ধের ফলে এশীয় দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড এবং চীনের মতো দেশগুলো তাদের জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ মেটাতো হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসা সরবরাহ থেকে। ইতিমধ্যে সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডে জনগণকে এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহার সীমিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চীনেও জ্বালানি তেলের খুচরা দাম ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বিশ্লেষক সল কাভোনিক বিবিসিকে বলেছেন যে, বর্তমানে তেলের বাজার বাস্তব পরিস্থিতির চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসা ট্রাম্প ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হুমকির ওপর ভিত্তি করে বেশি ওঠানামা করছে। বুধবার নাগাদ বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।
