হলিউড তারকা রেবেল উইলসনের বিরুদ্ধে আনা এক মানহানির মামলার প্রথম দিনের শুনানিতে তার করা দাবিগুলোকে ‘বিদ্বেষপূর্ণ ও কাল্পনিক’ বলে অভিহিত করেছেন আইনজীবীরা। সোমবার সিডনির একটি আদালতে এই মামলার শুনানি শুরু হয়। তরুণ অস্ট্রেলীয় অভিনেত্রী শার্লট ম্যাকইনেস এই মামলাটি দায়ের করেছেন। তার অভিযোগ, রেবেল উইলসন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা দাবি করেছেন যে, ম্যাকইনেস একজন নারী প্রযোজক দ্বারা যৌন হয়রানির শিকার হয়েছিলেন এবং ক্যারিয়ার গড়ার নেশায় সেই তথ্য গোপন করেছেন।
শার্লট ম্যাকইনেসের আইনজীবী সু ক্রিসান্থো আদালতে বলেন, উইলসনের এই প্রচারণা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এটি তার মক্কেলের সততা ও মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করেছে।
পুরো ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। সে সময় উইলসনের পরিচালিত ‘দ্য ডেব’ চলচ্চিত্রের শুটিং চলাকালীন বন্ডি বিচে সাঁতার কাটার পর প্রযোজক আমান্ডা ঘোস্টের অ্যালার্জিজনিত সমস্যা দেখা দেয়।
সেই পরিস্থিতিতে ঘোস্টের অ্যাপার্টমেন্টে শার্লট এবং ঘোস্ট দুজনেই একই বাথটাবে নেমেছিলেন, যদিও তারা উভয়েই সাঁতারের পোশাক পরা ছিলেন এবং শার্লটের দাবি অনুযায়ী তাদের মধ্যে কোনো স্পর্শ বা অস্বাভাবিক কিছু ঘটেনি। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে রেবেল উইলসন তার ইনস্টাগ্রাম পোস্টে দাবি করেন যে, শার্লট এই ঘটনায় অস্বস্তি বোধ করেছিলেন এবং একটি বড় থিয়েটার রোল ও রেকর্ড ডিলের বিনিময়ে সেই অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
তবে শার্লট এবং তার আইনি দল শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।অন্যদিকে রেবেল উইলসনের আইনজীবী দাউদ সিবতাইন আদালতে বলেন, শার্লট আসলে মিথ্যা বলছেন। তার দাবি অনুযায়ী, ক্যারিয়ারের স্বার্থে এবং প্রযোজক আমান্ডা ঘোস্টকে খুশি রাখতেই শার্লট নিজের অভিযোগ থেকে সরে এসেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ওই সিনেমার পর শার্লট যুক্তরাষ্ট্রে বড় ধরনের কাজের সুযোগ পেয়েছেন, যা উইলসনের করা দাবিরই প্রতিফলন।
তবে শার্লটের আইনজীবীরা বলছেন, উইলসন মূলত সিনেমার বাজেট এবং চুক্তি সংক্রান্ত বিবাদে প্রযোজকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে শার্লটকে গুটি হিসেবে ব্যবহার করেছেন। বর্তমানে রেবেল উইলসন অস্ট্রেলিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রে আরও দুটি মামলার মুখোমুখি হয়ে আছেন যেখানে চুক্তি ভঙ্গ ও মানহানির পাল্টা অভিযোগ রয়েছে।
