রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

ইরানের নতুন রণকৌশলের হুঁশিয়ারি: পাকিস্তান শান্তি আলোচনায় অনিশ্চয়তা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : এপ্রিল ২১, ২০২৬, ০২:৪২ পিএম

ইরানের নতুন রণকৌশলের হুঁশিয়ারি: পাকিস্তান শান্তি আলোচনায় অনিশ্চয়তা

তেহরানের রণকৌশল ও মধ্যপ্রাচ্য সংকট Ai ছবি

ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী বুধবার শেষ হতে যাচ্ছে এবং এই পরিস্থিতির মুখে তেহরান রণক্ষেত্রে নতুন রণকৌশল ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছে বলে বিবিসির সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। 

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন যে যদি ওয়াশিংটনের সাথে আবারও সংঘাত শুরু হয় তবে তেহরান যুদ্ধের ময়দানে নতুন কিছু তাস হাতে রেখেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে অত্যন্ত ক্ষীণ বলে মন্তব্য করার পর মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। এর মধ্যেই খবর ছড়িয়েছে যে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শান্তি আলোচনার জন্য মঙ্গলবার পাকিস্তানে পৌঁছাতে পারেন। 

তবে ইরান এখন পর্যন্ত ইসলামাবাদে কোনো প্রতিনিধি দল পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা কোনো প্রকার হুমকির মুখে আলোচনায় বসতে রাজি নয়।

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আলোচনার তোড়জোড় চললেও সেখানে এক ধরণের অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। শহরের রাস্তায় আলোচনার পোস্টার এবং নিরাপত্তা চেকপোস্ট দেখা গেলেও তেহরানের অনড় অবস্থান পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন। 

বিবিসির প্রধান আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা লিসে ডুসেট জানিয়েছেন যে ইরান আলোচনার বিষয়ে মিশ্র বার্তা দিচ্ছে। একদিকে যুদ্ধের হুঁশিয়ারি অন্যদিকে আলোচনার টেবিল থেকে নিজেদের অনুপস্থিতি বড় ধরণের সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার ওপর জোর দিয়ে বলেছেন যে এই আন্তর্জাতিক জলপথে সাধারণ যান চলাচল বজায় রাখা জরুরি। 

ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অবশ্য আলোচনা নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগ রয়েছে। দেশটির সাধারণ মানুষ ও নীতিনির্ধারকদের একাংশ মনে করছেন যে আলোচনার টেবিলে বসা মানেই এমন কিছু শর্ত মেনে নেওয়া যা তাদের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী হতে পারে। 

সব মিলিয়ে বুধবার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পুরো বিশ্ব এখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে।

banner
Link copied!