বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

ইউক্রেনের সেনা প্রধান পদচ্যুত করলেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ২২, ২০২৬, ০১:৫৪ পিএম

ইউক্রেনের সেনা প্রধান পদচ্যুত করলেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি

ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল আলেকজান্ডার সিরস্কিকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। দেশজুড়ে টানা কয়েক দিন ধরে চলা ব্যাপক বিক্ষোভ এবং জনপ্রিয় প্রতিরক্ষামন্ত্রীর অপসারণের পর সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিবিসি নিউজ ও রয়টার্স জানিয়েছে।

গত সপ্তাহে তরুণ ও জনপ্রিয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইখাইলো ফেদোরভকে বরখাস্ত করার পর রাজধানী কিয়েভসহ দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে তীব্র জনরোষ ও বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা সেনাপ্রধান সিরস্কির পদত্যাগের দাবি জানিয়ে স্লোগান দেন এবং তাকে পুরোনো সোভিয়েত আমলের কঠোর কমান্ড সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করেন। ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ছয় মাসের মধ্যে ফেদোরভকে সরিয়ে দেওয়ায় সরকারের ভেতরে এবং সামরিক বাহিনীর মধ্যেও তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছিল।

প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এক ভিডিও বার্তায় জানান, সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে পরিবর্তনের অংশ হিসেবে জেনারেল সিরস্কির স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন জনপ্রিয় ও অভিজ্ঞ কমান্ডার মাইখাইলো দ্রাপাতিয়। তিনি ২০২২ সালে রুশ আগ্রাসনের শুরুর দিনগুলোতে কিয়েভ রক্ষায় সিরস্কির অবদানের প্রশংসা করেন এবং বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন গতি আনতে এই পরিবর্তন অপরিহার্য ছিল বলে ইঙ্গিত দেন।

বিদায়ী ভাষণে সিরস্কি জানান, তিনি এমন একটি সেনাবাহিনী তার উত্তরসূরির হাতে তুলে দিচ্ছেন যা কেবল রক্ষণাত্মক অবস্থানে নেই বরং প্রতিহত করার ক্ষমতা রাখে। এদিকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণকারী কমান্ডার দ্রাপাতিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় উল্লেখ করেন যে দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় এই দায়িত্ব পালন করা অত্যন্ত সম্মানের এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই বিক্ষোভ ও বরখাস্তের ঘটনা ইউক্রেনের যুদ্ধকালীন রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে সামরিক কৌশল পরিবর্তন, অস্ত্র সরবরাহ এবং নতুন সেনা সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে সরকারের ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছিল, এই পদক্ষেপে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সরকারের ভেতরের এই রদবদল যুদ্ধক্ষেত্রের কার্যকারিতায় কতটা দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখনো নানা মহলে আলোচনা চলছে।

banner
Link copied!