রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

তেলের বাজারে অস্থিরতা: ২০ হাজার গ্রীষ্মকালীন ফ্লাইট কাটছাঁট লুফথানসার

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : এপ্রিল ২২, ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম

তেলের বাজারে অস্থিরতা: ২০ হাজার গ্রীষ্মকালীন ফ্লাইট কাটছাঁট লুফথানসার

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বড় সিদ্ধান্ত লুফথানসার!

জার্মান বিমান সংস্থা লুফথানসা তাদের ২০ হাজার ইউরোপীয় শর্ট-হাল ফ্লাইট বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রীষ্মকালীন এই যাত্রাগুলো পরিচালনা করা তাদের জন্য অলাভজনক হয়ে পড়েছে।

 বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিমান জ্বালানির দাম গত কয়েক মাসে দ্বিগুণ হয়েছে, যা সরাসরি তাদের ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে ইরান ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট উত্তেজনার কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। বিবিসির সাংবাদিক ফারিয়া মাসুদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপের মোট জ্বালানি আমদানির প্রায় ৫০ শতাংশ আসে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। 

ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালী কার্যকরভাবে বন্ধ করে দেওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা সংকটের মুখে পড়েছে। এর ফলে শুধু লুফথানসা নয়, কেএলএম-ফ্রান্স এবং ডেল্টার মতো বড় বিমান সংস্থাগুলোও ফ্লাইট কমাতে বাধ্য হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা টিকিটের দাম বাড়িয়ে বাড়তি খরচ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।

লুফথানসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ফ্লাইট কাটছাঁটের ফলে তারা প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি সাশ্রয় করতে পারবে। বিশেষ করে তাদের ‍‍`সিটি-লাইন‍‍` সেবা বন্ধের মাধ্যমে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা হবে। 

এই প্রক্রিয়ায় ২৭টি বিমান স্থায়ীভাবে অবসরে পাঠানোর কাজও ত্বরান্বিত করা হচ্ছে। এর প্রভাবে স্টুটগার্ট, জিডানস্ক, কর্ক এবং ট্রনহাইমের মতো ১০টি গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া হবে অথবা তাদের সহযোগী অন্য এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে বিকল্প পথে গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হবে।

জ্বালানি সংকটের এই প্রভাব মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি নতুন ‍‍`ফুয়েল অবজারভেটরি‍‍` বা জ্বালানি পর্যবেক্ষণ সংস্থা গঠন করার ঘোষণা দিয়েছে। এই সংস্থাটি ইউরোপের অভ্যন্তরে জ্বালানি উৎপাদন ও মজুত পরিস্থিতি তদারকি করবে। 

এর আগে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি সতর্ক করেছিল যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইউরোপে বিমান জ্বালানির তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে। লুফথানসা তাদের বর্তমান দীর্ঘপাল্লার ফ্লাইটগুলো চালু রাখলেও ইউরোপীয় অভ্যন্তরীণ রুটে আরও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে।

banner
Link copied!