প্যারামাউন্টের ১১১ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারিকে কিনে নেওয়ার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছেন কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা। বিবিসির ব্যবসায়িক প্রতিবেদক আর্চি মিচেল জানিয়েছেন যে এই ঐতিহাসিক চুক্তির ফলে হ্যারি পটার, গেম অব থ্রোনস এবং প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যম সিএনএন-এর মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডগুলো এখন প্যারামাউন্টের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে।
ওয়ার্নার ব্রাদার্সের চেয়ারম্যান স্যামুয়েল ডিপিয়াজ্জা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন যে প্যারামাউন্টের সাথে একীভূত হয়ে তারা সৃজনশীল প্রতিভা এবং গ্রাহকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে চান। তবে এই বিশাল চুক্তিটি কার্যকর হতে এখনো মার্কিন বিচার বিভাগ এবং ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রক সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।
এই চুক্তির নেপথ্যে কাজ করছে টেক বিলিয়নিয়ার ল্যারি এলিসনের মালিকানাধীন প্যারামাউন্ট, যার নেতৃত্বে রয়েছেন তার ছেলে ডেভিড এলিসন। তবে এই মার্জার বা একীভূতকরণ নিয়ে বিতর্কও কম নেই। বিশেষ করে সিএনএন-এর মালিকানা এলিসন পরিবারের হাতে চলে যাওয়া নিয়ে অনেক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রিপাবলিকান পার্টির বড় দাতা ল্যারি এলিসন বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য একটি ডিনার হোস্ট করছেন যেখানে সিএনএন-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে `হাল্ক` খ্যাত হলিউড অভিনেতা মার্ক রাফালো এই চুক্তির প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীদের সাথে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা এই চুক্তিকে একটি `দুর্নীতিগ্রস্ত আয়োজন` হিসেবে অভিহিত করেছেন।
অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই সিএনএন-এর প্রতিবেদনের সমালোচনা করে আসছেন এবং তিনি মনে করেন যে নেটওয়ার্কটি বিক্রি করে দেওয়া উচিত। হলিউডের প্রায় ১,৪০০ জন শিল্পী ও পরিচালক এই চুক্তির বিরুদ্ধে একটি খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন যেখানে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে এর ফলে কাজের সুযোগ কমবে এবং দর্শকরা কম বিকল্প পাবে।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন এই চুক্তিকে একটি বড় ধরণের বিপর্যয় হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও বাজার বিশ্লেষকদের মতে ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত এই চুক্তিতে সায় দিতে পারে তবে ইউরোপীয় নিয়ন্ত্রকদের কঠোর নজরদারির মুখে পড়তে হবে। যদি সবকিছু ঠিক থাকে তবে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই চুক্তিটি চূড়ান্ত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
