কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি গত ২৩ এপ্রিল অটোয়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য আলোচনায় তাঁর দেশ কোনো ধরনের চাপের কাছে নতি স্বীকার করছে না। আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কার্নি বর্তমানে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে কেবল নির্দেশ গ্রহণ হিসেবে দেখছেন না বরং একে একটি সমান অংশীদারিত্বের আলোচনা হিসেবে বিবেচনা করছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে কানাডা মার্কিন অবস্থান বুঝতে পারলেও নিজেদের জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাবে না। উভয় দেশের জন্য সুবিধাজনক ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করাই এখন অটোয়ার প্রধান লক্ষ্য।
বাণিজ্যিক এই টানাপোড়েনের মধ্যে কানাডীয় প্রধানমন্ত্রী নিয়ন্ত্রণযোগ্য বিরোধ এবং সরাসরি অধিকার লঙ্ঘনের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট পার্থক্য তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন যে বর্তমানে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক এবং গাড়ি আমদানির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে যা সাধারণ কোনো সমস্যা নয়। কার্নির ভাষায় বনজ পণ্যের ওপর আরোপিত এই অতিরিক্ত শুল্কগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতির সরাসরি লঙ্ঘন। তিনি মনে করেন একটি শক্তিশালী যৌথ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে হলে দুই পক্ষকেই পরস্পরের স্বার্থের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে কানাডার সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার এবং কানাডা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম অংশীদার। দুই দেশের এই গভীর পারস্পরিক নির্ভরশীলতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মার্ক কার্নি বলেন যে তাঁর সরকার একাধিক জটিল বিষয় একসঙ্গে সামলাতে সক্ষম। তিনি বিশ্বাস করেন কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে থাকলে বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সেই শক্তি কেবল তখনই টেকসই হবে যখন বাণিজ্য আলোচনা সমান মর্যাদা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। বর্তমান সরকারের এই দৃঢ় অবস্থান ওয়াশিংটনের সঙ্গে আগামী দিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
