রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

হরমুজে মাইন বসালে সরাসরি গুলির নির্দেশ দিলেন ট্রাম্প

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ১২:৪২ এএম

হরমুজে মাইন বসালে সরাসরি গুলির নির্দেশ দিলেন ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে মাইন স্থাপনকারী যেকোনো নৌকা বা ছোট নৌযানকে দেখা মাত্রই গুলি করে ধ্বংস করার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি মার্কিন নৌবাহিনীকে এই কড়া আদেশ দেন। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধের দামামা বাজতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনায় এই নির্দেশ আগুনে ঘি ঢালার মতো কাজ করছে।

নিজের পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি লিখেছেন যে, তিনি মার্কিন নৌবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা হরমুজ প্রণালিতে মাইন স্থাপনকারী যেকোনো নৌযানকে ‘শুটিং অ্যান্ড কিল’ বা গুলি করে হত্যা করে। এই আদেশ কার্যকর করার ক্ষেত্রে কোনো প্রকার দ্বিধা না করার জন্যও তিনি সামরিক বাহিনীকে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমানে ওই এলাকায় মার্কিন ‘মাইন সুইপার’ বা মাইন অপসারণকারী জাহাজগুলো কাজ করছে। তিনি এই জাহাজগুলোর তৎপরতা বর্তমানের তুলনায় তিন গুণ করার নির্দেশ দিয়েছেন যাতে নৌ-চলাচল নির্বিঘ্ন থাকে।

প্রেসিডেন্টের এই বার্তার পরপরই মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ বা পেন্টাগন এক বিবৃতিতে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। যুদ্ধ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক পানিসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজ ও নৌ-চলাচল নিরাপদ রাখা তাদের অগ্রাধিকার। বিশেষ করে ইরানের পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের অবৈধ তৎপরতা বা মাইন স্থাপনের চেষ্টা বন্ধে তারা বদ্ধপরিকর। মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহর, যারা মূলত বাহরাইনে অবস্থান করে এই অঞ্চলে কাজ করে, তারা ইতোমধ্যে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে পেন্টাগনের একটি সাম্প্রতিক মূল্যায়নে পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা উদ্বেগের চিত্র ফুটে উঠেছে। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন যে, হরমুজ প্রণালি থেকে সম্পূর্ণভাবে মাইন অপসারণ করা একটি অত্যন্ত জটিল এবং সময়সাপেক্ষ কাজ। পুরো এলাকাটিকে নিরাপদ করতে কমপক্ষে ছয় মাস সময় লেগে যেতে পারে। এই দীর্ঘ সময় ধরে যদি প্রণালিটি অনিরাপদ থাকে বা উত্তেজনা চলতে থাকে, তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে তার বড় প্রভাব পড়বে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই সরু পথটি দিয়েই প্রবাহিত হয়। ফলে মাইন আতঙ্ক এবং ট্রাম্পের এই কড়া নির্দেশের খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে।

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে এই সংকট নতুন কিছু নয়। ইরান এর আগেও বহুবার হুমকি দিয়েছে যে, তাদের স্বার্থ বিঘ্নিত হলে তারা এই প্রণালি বন্ধ করে দেবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্র দেশগুলো দাবি করে আসছে যে, ইরান গোপনে আন্তর্জাতিক জলসীমায় মাইন পেতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে বিপদে ফেলছে। ট্রাম্পের এবারের নির্দেশটি সরাসরি সেই অভিযোগেরই একটি পাল্টা পদক্ষেপ। যদিও সমালোচকরা বলছেন, এ ধরনের ‘শুটিং অ্যান্ড কিল’ নীতি পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যেতে পারে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের সূচনা করতে পারে। বর্তমানে পুরো বিশ্ব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যে, ট্রাম্পের এই নির্দেশের পর ইরানের পক্ষ থেকে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া আসে।

banner
Link copied!