শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩

গাজা থেকে ফিলিস্তিনি বিতাড়ন প্রস্তাব নাকচ করল যুক্তরাষ্ট্র

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬, ০৯:৪৯ পিএম

গাজা থেকে ফিলিস্তিনি বিতাড়ন প্রস্তাব নাকচ করল যুক্তরাষ্ট্র

গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে শীর্ষ ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক আহ্বান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র শুক্রবার জানিয়েছেন, গাজার জনসংখ্যা জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা, বহিষ্কার করা বা বাধ্যতামূলক স্থানান্তরের কোনো পরিকল্পনা বা প্রস্তাবকে ওয়াশিংটন সমর্থন করে না। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ গাজাকে জনশূন্য করাকেই চলমান সংকটের একমাত্র সমাধান হিসেবে দাবি করার পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সামনে এলো। মিত্র এই দুই দেশের মধ্যে এমন প্রকাশ্য কূটনৈতিক মতভিন্নতা সচরাচর দেখা যায় না বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের নীতিগত অবস্থানের ভিত্তি হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত কুড়ি দফার শান্তি কাঠামোর প্রতি ওয়াশিংটনের অবিচল প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। মুখপাত্র জানান, প্রেসিডেন্টের ওই পরিকল্পনার বারো নম্বর দফায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে কাউকে গাজা ছাড়তে বাধ্য করা হবে না এবং যারা স্বেচ্ছায় চলে যেতে চাইবেন তারা যেতে পারবেন এবং ফিরে আসার অধিকারও তাদের থাকবে। একই সাথে উপত্যকার বাসিন্দাদের নিজ ভূমিতে অবস্থান করতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি একটি উন্নত গাজা পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়ার কথাও সেখানে উল্লেখ রয়েছে। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, সাধারণ জনগণকে নিজ ভূমি থেকে বিতাড়িত করার যেকোনো পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনে জাতিগত নিধনের শামিল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এর আগে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি করেছিলেন যে ট্রাম্প কেবল ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার প্রতি তার সমর্থন স্থগিত রেখেছেন, তা পুরোপুরি বাতিল করেননি। গত বুধবার তিনি এক বক্তব্যে বলেছিলেন যে এই ধরনের স্থানান্তর ছাড়া গাজা সংকটের কোনো প্রকৃত বাস্তবসম্মত সমাধান নেই। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের তথ্যমতে, ইসরায়েলি কর্মকর্তারা গাজা খালি করার কৌশলকে আড়াল করতে অভিবাসন শব্দটি ব্যবহার করে আসছেন। কাটজ আরও যোগ করেন যে সমুদ্রপথ, আকাশপথ বা যেকোনো সম্ভাব্য উপায়ে ফিলিস্তিনিদের গাজার বাইরে পাঠাতে তার প্রশাসন প্রস্তুত এবং এই বিষয়টি তাদের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় নিয়মিতভাবে আলোচিত হচ্ছে।

আরব দেশগুলো শুরু থেকেই ফিলিস্তিনিদের তাদের ঐতিহাসিক ভূমি থেকে উচ্ছেদ করার যেকোনো প্রচেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত দেশগুলোও এই ধরণের স্থানান্তরের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নিয়েছে। আঞ্চলিক কূটনীতিকদের মতে, জোরপূর্বক এই ধরণের পদক্ষেপ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি চরম অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে।

হোয়াইট হাউস এই ইস্যুতে অতীতে হামাসকে নিরস্ত্র করার একটি প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানানোর কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে, যাতে গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর পর্যায়ক্রমিক প্রত্যাহার এবং নিয়মিত প্রাণঘাতী সামরিক হামলার অবসানের শর্ত অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে ইসরায়েল সেই রূপরেখা অগ্রাহ্য করে জানিয়েছে যে গাজা সম্পূর্ণরূপে নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো ধরনের ছাড় দেবে না।

banner
Link copied!