বাগদাদ ও মাস্কাটে ইরানের সব যাত্রীবাহী ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষ। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আরোপিত কঠোর নতুন নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। তেহরানের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, বুধবার স্থানীয় সময় মধ্যরাত থেকে ইরাক ও ওমানের রাজধানী দুটির প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইরানি উড়োজাহাজ গ্রহণ করা বন্ধ রাখছে।
আঞ্চলিক ফ্লাইট চলাচলে হঠাৎ ছন্দপতন ঘটেছে।
ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার মুখপাত্র মজিদ আখাওয়ান দেশটির আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থাকে জানান, বিদ্যমান পরিস্থিতির কারণে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাগদাদগামী বিমানগুলোকে সাময়িকভাবে ইরাকের নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করানোর জন্য দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও প্রযুক্তিগত সমন্বয় চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে ওমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও কূটনৈতিক স্তরে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে রাজধানী ইস্তাম্বুলসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক গন্তব্যে নিয়মিত ফ্লাইটগুলো পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চালু থাকবে বলে জানিয়েছে ইরানি সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বাগদাদ কিংবা মাস্কাটের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রকাশ্য বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
বিমান চলাচল বন্ধের পেছনে রয়েছে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার চাপ।
গত সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, ইরানি বিমান সংস্থাগুলোকে বৈশ্বিক কার্যক্রম থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানি কোনো বিমান অবতরণ করলে সংশ্লিষ্ট বিদেশি কোম্পানি যদি সেটিকে জ্বালানি সরবরাহ করে, অবতরণ সহায়তা দেয় কিংবা তাদের পক্ষে টিকিট বিক্রি করে, তবে সেই সংস্থাকে আন্তর্জাতিক মার্কিন ডলার লেনদেন ব্যবস্থা থেকে বহিষ্কার করা হবে। দ্বিতীয় স্তরের এই আর্থিক নিষেধাজ্ঞার হুমকি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোকে ইরানি ফ্লাইটের সেবা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করছে।
সরাসরি আকাশসীমা বন্ধ না করেও ফ্লাইট ঠেকানোর এটি একটি নতুন কৌশল।
বিমান পরিবহন বিশ্লেষকেরা জানান, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অন্য দেশের সার্বভৌম আকাশসীমা বন্ধ করার সরাসরি এখতিয়ার যুক্তরাষ্ট্রের নেই। তবে স্থানীয় জ্বালানি সরবরাহকারী ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞার ভয় দেখিয়ে কার্যত একই ফলাফল নিশ্চিত করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের চলমান সংঘাতের সপ্তম মাসে এসে এই নতুন অর্থনৈতিক ও লজিস্টিক চাপ তৈরি করা হলো।
চলতি মাসের শুরুর দিকে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের `অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল` ইরানের বাণিজ্য, জ্বালানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর বেশ কিছু কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। এর আগে গত আগস্টের শেষ দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নৌপরিবহন, প্রযুক্তি, সোনা ও ডিজিটাল মুদ্রা খাতের সাথে জড়িত আন্তর্জাতিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও দ্বিতীয় স্তরের নিষেধাজ্ঞা বিস্তারের ঘোষণা দেয়।
ওয়াশিংটনের এমন চরম পদক্ষেপের মধ্যেও কূটনৈতিক পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে তেহরান। কাতারের মধ্যস্থতায় দীর্ঘমেয়াদী একটি রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর আলোচনায় অংশ নিতে নিজেদের আগ্রহের কথা জানিয়েছে ইরান। তবে সামরিক প্রস্তুতির বিষয়ে কড়া বার্তাও দেওয়া হয়েছে। ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মহসেন রেজাই এক বক্তব্যে জানান, মার্কিন হুমকি দিয়ে কোনো বাস্তব ফল অর্জন করা যাবে না এবং নিজেদের প্রতিরক্ষায় তেহরান যেকোনো চূড়ান্ত পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
