রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কায় ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ১১:০৭ এএম

ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কায় ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এক অনিশ্চিত মোড় নিয়েছে যেখানে তেহরান ও তেল আবিবের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের হুমকি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রবল। ইরানের নীতিনির্ধারকরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সামরিক দুঃসাহস দেখানো হলে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ রাজধানী তেহরানে এক ভাষণে বলেন যে তার দেশ এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ। গালিবাফ জোর দিয়ে বলেন যে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন এখন আর নেই এবং পুরো জাতি সর্বোচ্চ নেতার নেতৃত্বে যেকোনো বাহ্যিক হুমকির মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে গালিবাফ তার বক্তব্যে ইরানকে একটি বিপ্লবী শক্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন যা তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না।

এদিকে ইসরায়েলের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব পাল্টা প্রস্তুতির কথা জানিয়ে উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ সম্প্রতি এক বিবৃতিতে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তারা ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো এবং কৌশলগত নেতৃত্বের কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনা করছে। আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী কাৎজ মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি গ্রিন সিগন্যাল বা সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় থাকার কথা উল্লেখ করেছেন। যদিও ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো হামলার অনুমোদন দেওয়ার কথা স্বীকার করেনি তবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির ঘটনাটি অন্য সংকেত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পেন্টাগনের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য এবং এর আশপাশের জলসীমায় অন্তত ১৯টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে দুটি বিশাল বিমানবাহী রণতরিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই বিশাল নৌবহর মোতায়েন করার মূল লক্ষ্য হচ্ছে ইসরায়েলকে সুরক্ষা প্রদান করা এবং ইরানকে কোনো বড় ধরনের হামলা থেকে বিরত রাখা। বিবিসি নিউজ জানিয়েছে মার্কিন কর্মকর্তারা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন এবং যেকোনো জরুরি অবস্থার জন্য তাদের নৌ ও বিমানবাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।

কূটনৈতিক স্তরেও কিছু তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই জানিয়েছেন যে তেহরান পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিচ্ছে না। বাঘেই উল্লেখ করেন যে দ্বিতীয় দফা আলোচনার জন্য প্রস্তুতি চলছে তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা একই সাথে আলোচনার পথ এবং যুদ্ধের প্রস্তুতি দুটিই খোলা রেখেছে। তবে ইসরায়েল যদি সরাসরি ইরানি ভূখণ্ডে আঘাত হানে তবে কোনো আলোচনা আর অবশিষ্ট থাকবে না বলে তেহরানের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে একটি ছোট ভুল সিদ্ধান্তও বড় আকারের আঞ্চলিক যুদ্ধের সূত্রপাত করতে পারে। ইরানের জ্বালানি ক্ষেত্রগুলো যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে বিশ্ব বাজারে তেলের দামের ওপর এর প্রভাব হবে নজিরবিহীন। অন্যদিকে ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রশ্নে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনড় অবস্থান রাশিয়া ও চীনের মতো অন্যান্য পরাশক্তিকেও এই দ্বন্দ্বে টেনে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহল এখন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যে তেল আবিব শেষ পর্যন্ত কোন পথে হাঁটে এবং তেহরানের ধৈর্য কতক্ষণ বজায় থাকে।

banner
Link copied!