মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মাঝে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই অবস্থান পরিষ্কার করেন। ইরানের ওপর পারমাণবিক হামলার পরিকল্পনা আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প প্রশ্নটিকে মূর্খতাপূর্ণ বলে অভিহিত করেন। তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন যে যেখানে প্রচলিত সামরিক শক্তি দিয়েই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব সেখানে কেন পারমাণবিক অস্ত্রের মতো বিধ্বংসী শক্তির আশ্রয় নিতে হবে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক পর্যায়ে রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন যে বর্তমান সংঘাতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রচলিত অস্ত্রভাণ্ডারই ইরানকে মোকাবিলা করার জন্য যথেষ্ট। তার মতে কোনো অবস্থাতেই কারো পক্ষ থেকে পারমাণবিক হামলা চালানো উচিত নয় এবং এটি সভ্য জগতের জন্য কাম্য হতে পারে না। ট্রাম্প দাবি করেন যে পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পুরোপুরি পরাস্ত করার সক্ষমতা রাখে এবং ইতোমধ্যেই সেই প্রক্রিয়ার কার্যকর প্রয়োগ শুরু হয়েছে। ইরানের সাথে সংঘাত নিরসনে তার ওপর কোনো রাজনৈতিক চাপ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বরং তিনি ইরানের সাথে একটি টেকসই এবং সবচেয়ে ভালো চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী বলে নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।
নিবন্ধের এই পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালির প্রসঙ্গটি। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে ইরান যতক্ষণ পর্যন্ত একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তিতে সই না করবে ততক্ষণ এই প্রণালি খুলে দেওয়া হবে না। তার মতে ইরান এই নৌপথ ব্যবহার করে তেলের ব্যবসা চালিয়ে শত শত মিলিয়ন ডলার আয় করবে আর সেই অর্থ দিয়ে পুনরায় সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এমন সুযোগ তিনি দিতে চান না। ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেন যে ইরান প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি ডলার আয় করুক এটি তিনি কোনোভাবেই হতে দেবেন না যতক্ষণ না রাজনৈতিক সংকট মিটছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যে স্পষ্ট যে তিনি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশলকেই সবচেয়ে কার্যকর মনে করছেন। তবে চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে সামরিক বিকল্পও যে টেবিলে রয়েছে সেটি তিনি স্মরণ করিয়ে দিতে ভুলেননি। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন যে তেহরান যদি আলোচনার টেবিলে এসে সঠিক সিদ্ধান্তে না পৌঁছায় তবে তিনি সামরিকভাবে এই যুদ্ধের সমাপ্তি টানবেন। যদিও তিনি বারবার চুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন কিন্তু তার এই কঠোর অবস্থান ইরানকে এক ধরনের কোণঠাসা পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
সামগ্রিকভাবে ট্রাম্পের এই বার্তাটি বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে দুটি বিষয় পরিষ্কার করেছে। প্রথমত যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক যুদ্ধে জড়িয়ে বিশ্ব অর্থনীতি ও মানবতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলতে চায় না। দ্বিতীয়ত ওয়াশিংটন তার অর্থনৈতিক ও নৌ-শক্তি ব্যবহার করে তেহরানকে একটি অসম চুক্তিতে বাধ্য করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ও তেলের বাজারের অস্থিরতার এই সময়ে ট্রাম্পের এই বক্তব্যটি বিশ্ব ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয় তেহরান এই প্রবল চাপের মুখে আলোচনার পথে হাঁটে নাকি পাল্টা প্রতিরোধের পথ বেছে নেয়।
