রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

ফ্রান্সে তীব্র সহিংসতা

ফ্রান্সে ব্যাপক সহিংসতা ও লুটপাট: জরুরি বৈঠকে বসেছে সরকার

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ১০:০০ পিএম

ফ্রান্সে ব্যাপক সহিংসতা ও লুটপাট: জরুরি বৈঠকে বসেছে সরকার

সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম সহিংস দিন পার করার পর রবিবার জরুরি সংকট বৈঠকে বসে ফরাসি সরকার। দেশজুড়ে চলা এই অস্থিরতায় পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সরকারি ভবন, ধ্বংস ও লুটপাট করা হয়েছে শত শত দোকান এবং গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুই হাজারের বেশি মানুষকে।

রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুন্যেসের পদত্যাগ দাবি করেছেন। আইনপ্রণেতাদের যুক্তি, সহিংসতার মাত্রা এতটাই তীব্র ছিল যে প্রশাসন সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত ছিল। হামলার মুখে পড়ে সরকারি ভবন ভাঙচুর করা হয়, বাসস্ট্যান্ড গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়, রাস্তায় ব্যারিকেড দেওয়া হয় এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালানো হয়।

আগামী বসন্তে পদত্যাগ করতে যাওয়া প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ রবিবার রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার প্রস্তুতি নেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখা এক বার্তায় তিনি জানান যে ফ্রান্সে সহিংসতার কোনো স্থান নেই।

শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পাশাপাশি দ্রুত একত্র হওয়া জনতা, বিক্ষিপ্ত অগ্নিকাণ্ড, রাস্তা অবরোধ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে হতবাক হয়ে পড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্যারিস, বোর্দো, নিস এবং মার্সেইয়ের মতো প্রধান শহরগুলোতে এসব ঘটনা ঘটে।

প্যারিস পুলিশ জানিয়েছে রাজধানী শহরে রেকর্ড ৮৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার প্যারিসের রাস্তাঘাটে সাইকেল ও ময়লার ঝুড়ি দিয়ে তৈরি পুড়ে যাওয়া ব্যারিকেডের অবশিষ্টাংশ, ভাঙা শপিং উইন্ডো এবং ভস্মীভূত গাড়ি পড়ে থাকতে দেখা যায়। প্যারিসের সমাজতান্ত্রিক উপমেয়র লামিয়া এল আরাজে জানান শহরটি এমন এক মাত্রার সহিংসতার মুখোমুখি হয়েছে যা আগে কখনো দেখা যায়নি।

মধ্য ফ্রান্সের লিমোজ শহরে উনিশ শতকের একটি টাউন হল পুড়িয়ে দেওয়া হয়। মেয়র গুইলেম গ্যুরিন জানান হামলাকারীরা কোনো অধিকারের দাবিতে আন্দোলনকারী নয় বরং তারা যুদ্ধের জন্য সুসংগঠিত। তিনি যোগ করেন দাঙ্গাকারীরা ভবনের কেয়ারটেকারকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং নির্বাচিত কর্মকর্তাদের ভবনটি পুড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে, যা তিনি রাষ্ট্রের বিশাল ব্যর্থতা হিসেবে বর্ণনা করেন।

গ্যুরিন জানান সংঘর্ষের সময় পৌরসভার পুলিশের কাছে থাকা গোলাবারুদ ফুরিয়ে গিয়েছিল। লিলি সহ অন্যান্য শহরের টাউন হলগুলোও দাঙ্গাকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়, যার ফলে পুলিশি কৌশলের পুনর্মূল্যায়নের দাবি উঠেছে।

ব্যবসায়ী ইউনিয়নগুলো জানিয়েছে দেড় হাজারের বেশি দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুটপাট করা হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি ইউরো ছাড়িয়ে গেছে। প্যারিসের এক জুতোর দোকানের মালিক জানান লুটেরাদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের কোনো সম্পর্ক নেই এবং তারা সুসংগঠিত দলের সদস্য।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দুই হাজারের বেশি গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং জানিয়েছে যে প্রায় ছয়শ পুলিশ সদস্য, অগ্নিনিভাপক কর্মী ও প্যারামেডিক আহত হয়েছেন। সাঁত-এতিয়েন শহরে ভিড় নিয়ন্ত্রণের গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়ে এক সতেরো বছর বয়সী কিশোর তার ডান হাত হারিয়েছে।

ম্যাক্রোঁর মধ্যপন্থী সরকার এবং উগ্র ডানপন্থী ব্যক্তিত্বরা এই সহিংসতার জন্য অতি-বামপন্থী দলগুলোকে দায়ী করেছেন। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্টিয়ান লেকোর্নু জানান অপরাধী ও অতি-বামপন্থীদের কাছে সরকার ভয় পাবে না এবং পুলিশ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আসা সমালোচনাকে দায়িত্বের একটি বিপজ্জনক ও কুৎসিত বিপরীতমুখী অপপ্রয়োগ বলে প্রত্যাখ্যান করেন।

উগ্র-বামপন্থী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জঁ-ল্যুক মেলেনশোঁ প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিশৃঙ্খলা ডেকে আনার মতো সাংগঠনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন। এর আগে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল।

banner
Link copied!