যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত বার্ষিক ‘হোয়াইট হাউস করেসপনডেন্টস ডিনার’ অনুষ্ঠানে বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে এই হামলায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এবং মন্ত্রিসভার সদস্যরা অক্ষত আছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
অনুষ্ঠান চলাকালে হোটেলের বলরুমের বাইরে হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা যায়। তৎক্ষণাৎ সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে মঞ্চ থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, গুলির শব্দ শোনার সাথে সাথে বলরুমের ভেতরে থাকা সাংবাদিক ও অতিথিরা আতঙ্কিত হয়ে টেবিলের নিচে আশ্রয় নেন। আল জাজিরার প্রযোজক ক্রিস শেরিডান জানিয়েছেন, তিনি বলরুমের ঠিক বাইরে অন্তত পাঁচটি গুলির শব্দ শুনেছেন এবং বারুদের গন্ধ পেয়েছেন।
ঘটনার পর এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, একাধিক অস্ত্রে সজ্জিত এক ব্যক্তি নিরাপত্তা চৌকি ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। তবে সিক্রেট সার্ভিসের তৎপরতায় তাকে দ্রুত নিরস্ত্রীকরণ করা সম্ভব হয়। ট্রাম্প এই হামলাকারীকে ‘একজন অত্যন্ত অসুস্থ ব্যক্তি’ এবং ‘ঠগ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি আরও জানান, হামলায় এক সিক্রেট সার্ভিস কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তবে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট থাকায় তিনি বড় ধরনের চোট পাননি।
সিক্রেট সার্ভিস নিশ্চিত করেছে যে, ঘটনাটি একটি ‘স্ক্রিনিং এরিয়া’ বা তল্লাশি কেন্দ্রে ঘটেছে এবং একজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মার্কিন গণমাধ্যমগুলো সন্দেহভাজনের পরিচয় প্রকাশ করেছে। ৩১ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির নাম কোল টমাস অ্যালেন, যিনি ক্যালিফোর্নিয়ার টরেন্সের বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় কর্মকর্তাদের ওপর হামলা এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ আনা হবে বলে জানিয়েছেন ডিস্ট্রিক্ট অফ কলাম্বিয়ার মার্কিন অ্যাটর্নি জেনিন ফেরিস পিরো। এফবিআই পরিচালক কাস প্যাটেল জানিয়েছেন, তারা এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ঘটনার পর দেশবাসীকে শান্তিপূর্ণভাবে মতভেদ নিরসনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আপনারা জানেন, গত কয়েক বছরে আমাদের প্রজাতন্ত্র বারবার সম্ভাব্য আততায়ীদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে।” এর আগে ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় পেনসিলভেনিয়ার বাটলারে এক সভায় ট্রাম্পের ওপর প্রাণঘাতী হামলা হয়েছিল, যেখানে তার কান সামান্য জখম হয়।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানা তাকাইচি এবং মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাম এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “গণতন্ত্রে সহিংসতার কোনো স্থান নেই।” নিরাপত্তা ঝুঁকি সত্ত্বেও ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি এই সংবাদ সম্মেলন বা গণমাধ্যমের সাথে জড়িত অনুষ্ঠানগুলো বাতিল করবেন না। তিনি বলেন, “আমাদের এখন এমন উচ্চস্তরের নিরাপত্তা প্রয়োজন যা আগে কখনও দেখা যায়নি।”
