ইয়েমেনের মারিব প্রদেশে সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যকার সশস্ত্র সংঘর্ষের দৃশ্য ধারণ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক ফ্রিল্যান্স ফটোসাংবাদিক। ইয়েমেনি জার্নালিস্টস সিন্ডিকেট গত শনিবার আবদুর রহমান আল-হুরির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
গত শুক্রবার মারিবের দক্ষিণাঞ্চলের একটি ফ্রন্টলাইন এলাকায় ভিডিও ধারণ করছিলেন আল-হুরি। তিনি নিয়মিতভাবে ওই প্রদেশের ভেতরের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সংবাদকর্মীদের কাছে ভিডিও ফুটেজ ও ছবি সরবরাহ করতেন।
সাংবাদিক ইউনিয়ন এই তরুণ সংবাদকর্মীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং এর পেছনে দায়ীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত দাবি করেছে।
সক্রিয় সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে কাজ করা সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইউনিয়নটি। সশস্ত্র সংঘাতের কারণে বেসামরিক সাংবাদিকরা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েন।
ইয়েমেনি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, মারিব অঞ্চলে হুথি আন্দোলনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে তাদের দুই সামরিক কমান্ডার নিহত হয়েছেন। তবে সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে তাদের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট সময় বা ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
মারিব প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ দুই পক্ষের মধ্যে বিভক্ত রয়েছে। সরকারি বাহিনী মারিব শহর এবং আঞ্চলিক তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রগুলো নিজেদের দখলে রেখেছে, আর হুথি আন্দোলন নিয়ন্ত্রক হিসেবে রয়েছে একাধিক গ্রামীণ জেলার।
২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে এবং দেশের বিভিন্ন অংশে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রসারিত করার পর থেকেই ইয়েমেনজুড়ে অব্যাহত সংঘাত চলছে।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন জানাতে ২০১৫ সালে সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন একটি সামরিক জোট হস্তক্ষেপ করে। এই সামরিক হস্তক্ষেপের ফলে বছরের পর বছর ধরে যুদ্ধ চলছে এবং দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে মারাত্মক এক মানবিক সংকট।
গত ২০২২ সালে স্বাক্ষরিত জাতীয় যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি জুলাই মাসে ভেঙে পড়ার পর সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যকার লড়াই নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে।
