রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

পুতিনের নতুন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে সন্দিহান জেলেনস্কি, ট্রাম্পের দ্বারস্থ ইউক্রেন

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ১০:০০ পিএম

পুতিনের নতুন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে সন্দিহান জেলেনস্কি, ট্রাম্পের দ্বারস্থ ইউক্রেন

রাশিয়ার পক্ষ থেকে আগামী সপ্তাহের জন্য প্রস্তাবিত একটি সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতির বিষয়ে বিস্তারিত জানতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দলের কাছে ব্যাখ্যা চাইবে ইউক্রেন। বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।

এই যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবটি এমন এক সময়ে সামনে এল যখন গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে একটি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ট্রাম্প পরবর্তীতে সাংবাদিকদের জানান, তাদের মধ্যে "ছোট পরিসরে একটি যুদ্ধবিরতি" নিয়ে কথা হয়েছে। তবে এর শর্ত বা পরিধি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত এই যুদ্ধবিরতিটি মূলত ৯ মে-কে কেন্দ্র করে কার্যকর হবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির পতনের বার্ষিকীকে রাশিয়া এই দিনে উদযাপন করে থাকে। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির সুনির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

মে মাসের ৯ তারিখ রাশিয়ায় একটি বড় সরকারি ছুটির দিন। ঐতিহ্যগতভাবে দিনটি মস্কোর রেড স্কয়ারে বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজের মাধ্যমে পালিত হয়। ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে পুতিন এই দিনটিকে দেশের জনগণকে যুদ্ধের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ করার কাজে ব্যবহার করে আসছেন। আধুনিক রাশিয়ান সৈন্যদের তিনি অ্যাডলফ হিটলারের বিরুদ্ধে লড়াই করা বীরদের উত্তরসূরি হিসেবে উপস্থাপন করে থাকেন।

এই প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেন গভীর সংশয় প্রকাশ করেছে। জেলেনস্কি যুদ্ধবিরতির আসল উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, "আমরা স্পষ্ট করতে চাই এটি আসলে কী—মস্কোতে একটি কুচকাওয়াজের জন্য কয়েক ঘণ্টার নিরাপত্তা, নাকি এর চেয়ে বেশি কিছু?"

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে জানান। তার মতে, ইউক্রেনের প্রস্তাব হলো একটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি, মানুষের জন্য নির্ভরযোগ্য ও নিশ্চিত নিরাপত্তা এবং একটি টেকসই শান্তি। যেকোনো মর্যাদাপূর্ণ ও কার্যকর কাঠামোর অধীনে এর জন্য কাজ করতে কিয়েভ প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

যুদ্ধবিরতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাসের একটি বড় ইতিহাস রয়েছে। রয়টার্সের তথ্যমতে, গত বছর ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয়ের ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে পুতিন ৭২ ঘণ্টার একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু কিয়েভ সেই প্রস্তাবের সাথে একমত হয়নি। ইউক্রেন সে সময় এটিকে রাশিয়ার একটি ‍‍`কৌশলগত প্রতারণা‍‍` বলে আখ্যায়িত করে এবং মস্কোর বিরুদ্ধে শত শত বার নিজেদেরই ঘোষিত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনে।

পেসকভ অবশ্য জানিয়েছেন, পুতিন ইতিমধ্যে সাম্প্রতিক এই যুদ্ধবিরতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং এটি বাস্তবায়িত হবে। একই সঙ্গে এই বিষয়ে কিয়েভের কাছ থেকে কোনো ধরনের উত্তরের প্রত্যাশা করছে ক্রেমলিন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন—যার অংশ ছিল আজকের রাশিয়া এবং ইউক্রেন—প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ মানুষ হারিয়েছিল। এই সংখ্যা বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় অনেক বেশি। তাই এই দিনটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব উভয় দেশের জন্যই অত্যন্ত সংবেদনশীল।

এদিকে, যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতা এবারের উদযাপনে প্রভাব ফেলছে। রাশিয়া জানিয়েছে, এবারের রেড স্কয়ার প্যারেড আগের বছরগুলোর তুলনায় ছোট হবে এবং সেখানে চিরাচরিত ভারী অস্ত্রশস্ত্রের প্রদর্শনী থাকবে না। ক্রেমলিন এর জন্য ইউক্রেন থেকে আসা ‍‍`সন্ত্রাসী হুমকিকে‍‍` দায়ী করেছে। রয়টার্স বলছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে গভীরে গিয়ে তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিমাণ বাড়িয়েছে। অন্যদিকে, মস্কোর বাহিনীও যুদ্ধক্ষেত্রে খুব ধীরগতিতে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার দিনিপ্রোতে রাশিয়ান ড্রোন হামলার খবরও জানিয়েছে রয়টার্স, যা এই সংঘাতের চলমান তীব্রতাকেই নির্দেশ করে।

banner
Link copied!