মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে কোনো সামরিক হামলা চালায়, তবে তার জবাবে দীর্ঘ ও যন্ত্রণাদায়ক আঘাত হানার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছে তেহরান। বৃহস্পতিবার রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ইরানের এই ঘোষণার ফলে প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য মিত্রদের নিয়ে ওয়াশিংটন যে জোট গঠনের পরিকল্পনা করছে, তা আরও জটিল রূপ ধারণ করল।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের এই সংঘাত ইতিমধ্যে দুই মাস পার করেছে। রয়টার্সের তথ্যমতে, এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক চ্যানেলটি এখনো বন্ধ রয়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার অর্থ হলো বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ আটকে থাকা। এর সরাসরি এবং তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম হু হু করে বাড়ছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি বড় ধরনের মন্দার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
জ্বালানি সরবরাহে এই বিশাল ঘাটতির কারণে বাজারের পরিস্থিতি এখন চরম অস্থির। রয়টার্স নিশ্চিত করেছে, ইতিমধ্যে বেঞ্চমার্ক তেলের মূল্য গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। শিল্পোন্নত দেশগুলো থেকে শুরু করে উন্নয়নশীল দেশ—সবাই এই সরবরাহ সংকটের কারণে ব্যাপক চাপে পড়েছে। বাজারে তেলের প্রবাহ কমে যাওয়ায় আমদানিকারক দেশগুলোকে অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খুব শিগগিরই তার সামরিক কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন। রয়টার্স জানিয়েছে, এই ব্রিফিংয়ে সামরিক জোট গঠন এবং হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার বিষয়ে সম্ভাব্য সামরিক ও কূটনৈতিক বিকল্পগুলো নিয়ে তাকে অবহিত করা হবে। ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে এই জলপথ সচল করার জন্য মিত্র দেশগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগ করতে শুরু করেছে। তবে ইরানের সর্বশেষ এই কঠোর বার্তার পর সেই প্রচেষ্টা বিনা বাধায় সফল হবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে।
হরমুজ প্রণালি ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম স্পর্শকাতর একটি অঞ্চল। পারস্য উপসাগর থেকে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল রপ্তানির প্রধানতম পথ এটি। তেহরানের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, তাদের জলসীমায় কোনো ধরনের পশ্চিমা হস্তক্ষেপ তারা মেনে নেবে না। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা বৈশ্বিক অর্থনীতির স্বার্থে যেকোনো মূল্যে এই নৌপথ নিরাপদ করার কথা বলছে।
উভয় পক্ষের এই অনড় অবস্থানের কারণে সামরিক সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া সামরিক সিদ্ধান্তগুলোর ওপরই এখন নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি। জ্বালানি বাজার স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত কোন পথ বেছে নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব।
