শনিবার, ০৯ মে, ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩

পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী: শপথ আজ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ৯, ২০২৬, ১০:৫৬ এএম

পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী: শপথ আজ

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। আজ শনিবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন শুভেন্দু অধিকারী। ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটিয়ে এই হিন্দু জাতীয়তাবাদী দলটি পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় বসছে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেই কলকাতায় উপস্থিত হয়েছেন। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজ্যপাল আরএন রভির হাতে সরকার গড়ার দাবি জানিয়ে চিঠি তুলে দিয়েছেন মি. অধিকারী।

শুভেন্দু অধিকারীর এই উত্থানকে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ‍‍`জায়ান্ট কিলার‍‍` হিসেবে অভিহিত করছেন। ভারতের গণমাধ্যমগুলোতে তাকে এই নামে ডাকার পেছনে বড় কারণ হলো মমতা ব্যানার্জীকে পর পর দুটি বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত করা। প্রথমে ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে এবং চলতি বছরের নির্বাচনে মমতার নিজের দুর্গ হিসেবে পরিচিত ভবানীপুর আসনেও জয়ী হয়েছেন শুভেন্দু। এবারের নির্বাচনে ২৯৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৭টিতে জয়লাভ করেছে, যা পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির রাজনৈতিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকারী শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর স্বপ্ন পূরণের পথে বড় একটি ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল কংগ্রেসের হাত ধরে। মেদিনীপুর জেলার শক্তিশালী রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা শুভেন্দুর বাবা শিশির অধিকারীও ছিলেন কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা। পরে মমতা ব্যানার্জী যখন তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেন, তখন অধিকারী পরিবার তার অন্যতম বিশ্বস্ত সেনাপতি হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ২০০৬-০৭ সালে নন্দীগ্রামে জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলনে তৃণমূল স্তরে সংগঠন গড়ে তোলার কারিগর ছিলেন শুভেন্দু। সেই আন্দোলনের সিঁড়ি বেয়েই ২০১১ সালে মমতা ব্যানার্জী ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন।

তবে এক সময়ের বিশ্বস্ত এই সহকর্মীর সঙ্গে মমতার দূরত্ব শুরু হয় মূলত অভিষেক ব্যানার্জীকে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা করা নিয়ে। দলের ভেতর ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাতে শুরু করলে শুভেন্দু কোণঠাসা বোধ করতে থাকেন। ২০২০ সালে তিনি বিজেপি শিবিরে যোগ দেন এবং এরপর থেকেই মমতা ও অভিষেকের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণাত্মক অবস্থানে চলে যান। তার নির্বাচনী প্রচারে বারে বারে উঠে এসেছে হিন্দু ভোট মেরুকরণ এবং বাংলাদেশ থেকে আসা ‍‍`অনুপ্রবেশকারী‍‍` ও রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গ। এই কট্টর অবস্থান বিজেপির হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিকে পশ্চিমবঙ্গে শক্তিশালী ভিত্তি দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

শুভেন্দুর রাজনৈতিক জীবনের ছায়াসঙ্গী হিসেবে আছে সারদা ও নারদা কেলেঙ্কারির মতো অভিযোগও। নারদা স্টিং অপারেশনে তার নাম জড়িয়েছিল এবং ফুটেজে তাকে দেখা গিয়েছিল। তবে বিজেপি এই অভিযোগকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কারণেই শুভেন্দুর বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তবে এসব বিতর্ক ছাপিয়েও আজ শুভেন্দু অধিকারী বাংলার মসনদে বসছেন। ২০২৬ সালের এই নির্বাচন বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রকে আমূল বদলে দিয়েছে, যেখানে এক সময়ের ‍‍`কমরেড‍‍` ও ‍‍`তৃণমূল‍‍` কর্মীদের ভিড়ে এখন গেরুয়া পতাকাই প্রাধান্য পাচ্ছে।

banner
Link copied!